আদিবাসী শিশুদের স্কুলে নিজ ভাষার ব্যবহার না থাকায় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে

আপডেট: নভেম্বর ২, ২০২২, ১১:১১ অপরাহ্ণ

ধামইরহাট প্রতিনিধি:


নওগাঁর ধামইরহাট আদিবাসী স্কুল ও কলেজের শ্রেণি কক্ষে পাঠদানে আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষার ব্যবহার শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় না থাকায় আদিবাসী শিশু-কিশোররা শিক্ষাক্ষেত্রে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। শিশু-কিশোর মায়ের ভাষায় শিক্ষা অর্জন করতে না পারায় কচিকাচা শিশু ও শিক্ষার্থীরা অনেক বিষয় বোধগম্য হয় না। ছোট ছোট আদিবাসী শিশু শিক্ষার্থীদের ভাষা বুঝাতে শিক্ষকরাও পড়ছেন বিড়ম্বনায়।

বাড়িতে আদিবাসী মায়েরা তাদের নিজ ভাষায় শিখান। এতে করে স্কুল, কলেজে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে ভিন্ন ভাষা বুঝতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আজমল হোসেন জানান, উপজেলায় ১১২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ৪টি আদিবাসী নামকরণ। এগুলো হচ্ছে ইসবপুর ইউনিয়র্নে বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলমপুর ইউনিয়নের উত্তর চৌঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধামইরহাট পৌরসভার তালঝাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া এনজিও পরিচালিত উপজেলার মাহিসন্তোষ সোনাদিঘী, খেলনা ইউনিয়নে ৩টি আগ্রাদ্বিগুনের ১টি সমসাময়িক এনজিওর মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া উপজেলা সদর থেকে ৭ কিমি উত্তর পূর্ব কর্ণারে জগদল স্কুল এন্ড কলেজ ৫০ বছর ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। এ কলেজে আদিবাসী শিক্ষক স্টাফ প্যাটার্ণটির মধ্যে মাত্র ৪ জন আদিবাসী শিক্ষক রয়েছে। কলেজটিতে ১টি মহিলা আদিবাসী শিক্ষিকাও রয়েছে।

অভিভাবকরা সকল আদিবাসী স্কুল এন্ড কলেজে আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে আদিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। ১১২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষে দু-একটি বিদ্যালয় ছাড়া সবকয়টিতেই আদিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। যেমন- মাহিসন্তোষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বস্তাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোতওসমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেনীদুয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আদিবাসীর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। বেনীদুয়ার বিদ্যালয়ে ১৪৩ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৭ জন শিক্ষার্থী আদিবাসী। এ বিদ্যালয়ে আদিবাসী শিক্ষক নাই। চৌঘাট আদিবাসী বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন জানান, তার স্কুলে আদিবাসী শিক্ষক নাই।

তালঝাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা দিপালী রানী জানান, এখানে কোন আদিবাসী শিক্ষক নাই। তিনি জানান ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জন মুসলমান ২ জন হিন্দু, অবশিষ্ট সবাই আদিবাসী শিক্ষার্থী।

তালঝাড়ি বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী সোনামার্ড জানান, তার বাড়িতে পড়াশেষে লেখার জন্য অলমে এর মানে হলো লিখ তখন আমি লিখি। বিদ্যালয়ের স্যার বলেন লিখ তখন আমি ভাষা বুঝতে পারি না।

চতুর্থ শ্রেণির বিজয় মার্ডি জানান, পড়ার সময় হলে মা বলেন ‘পালহাওমে’ মানে হলো ‘পড়া শুরু করা’। বিদ্যালয়ের স্যার বলেন পড়া শুরু কর, যা বুঝতে কষ্ট হয়।

একই বিদ্যালয়ের অভিভাবক জয়ন্তী রানী বলেন, আমরা বাড়িতে ছেলে-মেয়েদেরকে আমাদের ভাষাতে পড়াশোনা করাই। বিদ্যালয়গুলোতে আদিবাসী ভাষায় পাঠদান ব্যবস্থাপনা না থাকায় অনেক কিছু বুঝতে অসুবিধা হয়। একজন করে হলেও আদিবাসী শিক্ষক থাকলে সমস্যাগুলো এত বেশি হত না।

তালঝাড়ি বিদ্যালয়ে শিক্ষক দিপালী রানী জানান, স্কুলটি আদিবাসী অদ্যুষিত এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। চৌ-ঘাট আদিবাসী স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, একজন করে হলেও আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে শিশুরা আনন্দে পাঠ গ্রহন করতে পারতো।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আজমল হোসেন জানিয়েছেন, অন্যান্য উপজেলায় আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলোতেও নিয়োগ হয়ে যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ