আধা কিলোমিটারের ড্রেনে ভেঙেছে ২৮টি স্লাব!

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন এলাকার ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে পদ্মা হোটেল পর্যন্ত আধা কিলোমিটার রাস্তা সংলগ্ন ড্রেনের স্লাব ভেঙ্গে ২৮টি স্থানে ঝুকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত সেই স্লাব বিহীন উন্মুক্ত ড্রেনের মধ্যে পড়ে আহত হচ্ছেন পথচারীরা। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা স্লাবের পরিবার্তে কাঠ ও বাঁশ ব্যবহার করে  ড্রেনের মুখ বন্ধ করেছেন। প্রায় দুই বছর যাবৎ এ ঝুকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হলেও তা সংস্কারের কোন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে ড্রেনের স্লাবগুলো সংস্কার করার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনগণ বললেও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন নি তিনি। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী আজমত আলী সোনার দেশকে বলেন, ‘প্রায় দুই বছর যাবৎ এভাবে ড্রেনের স্লাবগুলো ভেঙ্গে ড্রেন উন্মুক্ত হয়ে আছে। অসাবধানতাবশতঃ পায়ে হেঁটে যাবার সময় লোকজন প্রায় ড্রেনের মধ্যে পড়ে আহত হন। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা নিজস্ব উদ্যোগে স্লাবের পরিবর্তে কাঠ আর বাঁশ ঝুকিপূর্ণ স্থানগুলোকে কিছুটা ঠিক করার চেষ্টা করেছি। এ ভাঙ্গা স্লাবগুলো ঠিক করে দেয়ার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে আমরা বলেছিলাম, কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। বরং আমাদেরকে বলা হয়েছে যে বেশি সমস্যা হলে চাঁদা তুলে মেরামত করে নিতে।’
গতকাল শনিবার বিকেলে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় সরজমিনে গিয়ে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে পদ্মা হোটেল পর্যন্ত প্রধান সড়কের দক্ষিণ পাশে তিন ফিটের একটি ড্রেন রয়েছে। যা মূলত ফুটপাত হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সেই ড্রেনের স্লাবগুলোর বেহালদশা। ড্রেনের প্রায় অধিকাংশ স্লাব নষ্ট হয়ে গেছে। আর স্লাব ভেঙ্গে ২৮টি স্থানে ঝুকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনের মধ্যে ময়লা আবর্জনা জমে দুগর্ন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে কিছু স্থানে স্লাবের পরিবর্তে কাঠ আর বাঁশ দিয়ে ড্রেনের উন্মুক্ত স্থান বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়াও লাল কাপড় ঝুলিয়ে সতর্ক সংকেত দেয়া হয়েছে কিছু কিছু স্থানে। অন্যদিকে রাস্তার দক্ষিণ পাশে ড্রেনের ধার ঘেঁষে রাস্তার ওপরে জমে রয়েছে ময়লা পানি। নিয়মিতভাবে ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং রাস্তার পানি বের হওয়ার জন্য ড্রেনের দিকে কোন ছিদ্র না থাকাতে রাস্তার পানি বের হতে পারে না। এতে পিছলা হয়ে রয়েছে রাস্তার অনেকটা অংশ। তাই চলাচলের সুবিধার্থে জমে থাকা পানির উপরে মাটি ও সুরকি ফেলে উঁচু করা হয়েছে ।
বাসের স্টাফ লিটন হোসেন সোনার দেশকে বলেন, ‘ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার না করায় রাস্তা থেকে পানি নামার জন্য ড্রেনের সঙ্গে থাকা ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে রাস্তার পানি ড্রেনে না নামতে পেরে রাস্তার ধারে জমে থাকে। ফলে জনগণ পড়েছে ভোগান্তিতে।’
স¤্রাট নামের একজন পথচারী সোনার দেশকে বলেন, ‘এটি ব্যস্ত রাস্তা। সবসময় যানবহনের জ্যাম থাকে। তবুও ফুটপাত দিয়ে পায়ে হেঁটে যাওয়ার উপায় নেই। সব অবৈধ দখল হয়ে গেছে। আর ড্রেনের উপরের যেটুকু হেঁটে যাওয়ার জায়গা অবশিষ্ট ছিল। সেই স্থানটুকুও স্লাব ভাঙ্গে ঝুকিপুর্ণ হয়ে পরেছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেয়না। ফলে জনগণকে পোহাতে হয় ভোগান্তি।’
এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক সোনার দেশকে বলেন, ‘সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, দ্রুতই তা বাস্তাবায়ন করা হবে।’
এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিজাম উল আযীম-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সোনার দেশকে বলেন, ‘সংস্কারের জন্য টেন্ডার হয়ে আছে কিন্তু টাকার অভাবে কাজ করা যচ্ছে না।’