আনারুল হক আনা’র দৃঢ় উচ্চারণ ‘নো স্যার’

আপডেট: আগস্ট ২৬, ২০২২, ৯:১১ অপরাহ্ণ

এম এ রাজ্জাক:


প্রতিদিনের দৃশ্যপটে আমরা অন্যায় দেখলেও গা এড়িয়ে চলি। আর তোষামদি রপ্ত করতে করতে জি স্যার হ্যাঁ স্যার ইয়েস স্যার ছাড়া নো স্যার বলার অভ্যাস অনেকে ভুলতেই বসেছি। অন্যায়ে প্রতিবাদ কিংবা খোলাখুলি সত্য কথা বললেই ব্যাস্, অম্নি আপিন হলে গেলেন জটিল মানুষ। আর শুনবেন, আরে ভাই একটু সহজ হন। সহজ করে বলুন। সবকিছু সহজ করে নিতে শিখুন। তাহলে ‘সহজ কথা কইতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে’ রবীঠাকুরের এ উপলব্ধি আমরা বারবার আওড়াবো কেন? গবেষক ও কথাশিল্পী আনারুল হক আনা। খুব দৃঢ়তার সাথে চাররঙা মলাটবদ্ধ কাগেজে উচ্চারণ করেছেন ‘নো স্যার’। আত্মোপলব্ধি প্রসূত উজ্জ্বল বর্ণনা নিয়ে লেখক হাজির হয়েছে এ উপন্যাসে। তাবেদারিত্বের গন্ডি পেরিয়ে নিজের অবস্থান, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অন্তত একবার হলেও ব্যতিক্রমধর্মী ‘নো স্যার’ এ উপন্যাসটি পড়া দরকার। আমরা যেন কারণে-অকারণে আজ্ঞাবহ, চাটুকার, আনুগত দাসত্বের নতনীতিতে নেতিয়ে না গিয়ে যৌক্তিক দৃঢ়তার সাথে বলতে শিখি ‘নো স্যার’। প্রথাগত প্রভুত্ববাদতোষণে নিবেদিত না হয়ে নির্ভিক চরিত্র ও নির্মহ মানুষ হবার প্রচেষ্টা-দৌড় উপন্যাসটির মূল উপজীব্য। চরিত্র চয়নে কথাশিল্পী অনন্যতার পরিচয় রেখেছেন। উপন্যাসে প্রতিবাদী চরিত্র আবিদ। তাকে ঘিরে কিছু রহস্যও আছে। আর অন্য চরিত্ররা হলো মনূষা, মল্লিকা, জলিল, সালাম, সেন্টু এবং ডাক্তার সারা ও জোবাইদা। উপন্যাসে এসেছে সক্রেটিসের সংগ্রামী আত্মত্যাগের কথা, যিশুর পরিণতির কথা এবং ইসলাম বিজয়ের কথা। এ ছাড়া আধুনিক রাষ্ট্রনায়ক মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলন, নেলসন ম্যান্ডেলার ত্যাগ আন্দোলন-সংগ্রামের কথা এতে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রধান মন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিবকে ‘স্যার’ না বলায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বদলি হওয়ার ঘটনা, সাংবাদিক ডিসিকে ‘স্যার’ না বলায় ক্ষুব্ধ হওয়া, সম্পাদক ইউএনওকে ‘স্যার’ না বলায় ক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া এবং বর্তমান আলোচিত বাস্তবতা ক্লিনিকে চিকিৎসকদের বিভিন্ন টেস্টের নামে অনৈতিক পারসেনটেজ গ্রহণ এতে চাক্ষস ফুটে উঠেছে। সাম্প্রতিক জীবন নির্ভর বাস্তবধর্মী ‘নো স্যার’ উপন্যাস এক কথায় অনারুল হক আনা’র এক অনবদ্য সৃষ্টি যা পাঠক মহলে আশাকরি সমাদৃত হবে।