আন্ডারডগ নয়, ফেভারিটও না

আপডেট: আগস্ট ২৭, ২০১৭, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


২০০৬ সালে শেষবার যখন বাংলাদেশে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া, তখন বিশ্ব ক্রিকেটে ছিল তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য। এরপর সময়ের বিবর্তনে নিজের সেরা খেলোয়াড়দের হারিয়ে অনেকটাই খর্ব শক্তির দল তারা। অপরদিকে এই ১১ বছরে অনেক বদলেছে টাইগাররা। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণে দলটি দারুণ ক্রিকেট খেলছে অনেক দিন থেকেই। তাই অসিদের বিপক্ষে এখন আর আন্ডারডগ নয় বাংলাদেশ। স্মিথদের রীতিমতো হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন দেখছেন কোচসহ দলের অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাই। তবে মুশফিক ভাবছেন দুই দলের সমান সমান সম্ভাবনা রয়েছে এ সিরিজে। নিজেদের আন্ডারডগ ভাবার সুযোগ নেই আবার ফেভারিট ভাবার ভুলও করছেন না!
শক্তির বিচারে তারপরও অনেক এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারদের মতো খেলোয়াড়রা একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। পিটার হ্যান্ডসকম্ব, উসমান খাজারা আছেন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল বিধ্বংসী। পেস বোলিংয়ে বরাবরই তাদের আক্রমণ ভাগ বিশ্বসেরা। যদিও ইনজুরির কারণে সেরাদের পাচ্ছেনা তারা। তারপরও জশ হ্যাজলউড, প্যাট কামিন্সরা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন যে কোনো উইকেটে। আর বাংলাদেশের স্পিনিং উইকেটে ন্যাথান লায়ন হুমকি হয়ে উঠতে পারেন। বিশেষ করে দলের অধিকাংশ ক্রিকেটার বাঁহাতি হওয়ায় শঙ্কাটা বড় হয়েছে আরও। ভোগাতে পারেন অ্যাগারও। এছাড়াও ভাবনায় রয়েছে ভারতে তাদের চলতি বছরের চমৎকার পারফরম্যান্স।
তবে শক্তিতে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের মাঠ আশা যোগাচ্ছে মুশফিককে। দেশের পরিচিত উইকেটে নিজেদের অভিজ্ঞতার কারণে লড়াইটা সমান হবে বলে মনে করছেন তিনি, ‘আমাদের হোম কন্ডিশন, ওদের চেয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা (এখানে) বেশি। হতে পারে ওরা এই কন্ডিশনে কম ম্যাচ খেলেছে কিন্তু এখানে কিভাবে খেলতে হবে সেটা ওরা জানে। ভারতে সিরিজ হেরে গেলেও ওরা কিন্তু প্রথম টেস্ট জিতেছিল। আমার মনে হয়, এটা (সম্ভবনা) দুই দলের জন্য পঞ্চাশ-পঞ্চাশ থাকবে।’
শক্তি কিংবা অভিজ্ঞতায় যে যতই এগিয়ে থাকুক না কেন মুশফিকের মতে দিনশেষে যারা পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন করতে পারবে, জয়ের পাল্লা তাদের দিকেই ঝুলে থাকবে। নিজেদের এগিয়ে রাখতে প্রস্তুতিটা সেভাবেই নিচ্ছেন মুশফিকরা, ‘আমাদের বিবেচনায় সব কিছুই আছে। ওরা কতটুকু ভালো করতে পারে কিংবা আমরা কতটা ভালো খেললে ওদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারবো তা নিয়ে কাজ করছি। আমাদের বোলিং লাইনআপ অনভিজ্ঞ। ওদের অভিজ্ঞ কিছু বোলার আছে, খুব ভালো খেলেছে এমন কিছু ব্যাটসম্যানও ওদের আছে। সেদিক থেকে বলবো-ভারসাম্য দুই দলেই আছে। আমার মনে হয়, মাঠে যারা ভালোভাবে প্রয়োগ করতে পারবে ওরাই এগিয়ে থাকবে।’
গত ২২ ও ২৩ আগস্ট একটি দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া দলের। অতিবৃষ্টির কারণে ফতুল্লা স্টেডিয়াম প্রস্তুত না থাকায় ম্যাচটি আর মাঠে গড়ায়নি। বিকল্প ভেন্যুতে খেলার প্রস্তাব দিলেই তাতেও তারা রাজি হয়নি। আর এ কারণেই অসিরা কিছুটা পিছিয়ে আছে বলে জানান মুশফিক, ‘যদি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারত, আমি মনে করি উইকেট সম্পর্কে আরও অনেক ভালো ধারণা পেতে পারত। যতই অনুশীলন করুক না কেন, সেন্টার উইকেট কেমন আচরণ করবে সেটা বোঝা খুব কঠিন।’