আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত

আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০২১, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :


রাজশাহীতে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে Early Warning System (EWS) Project এর আওতায় এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। রোববার (২৪ অক্টোবর) নগরীর একটি হোটেলে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বজায় রাখতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা, শান্তির সংস্কৃতি নির্মাণে নারীদের ভূমিকা, ফেইসবুকে ধর্মীয় উস্কানিমূলক তথ্য যাচাই ও সঠিক তথ্য প্রচারে যুব সম্প্রদায়ের ভূমিকা, কমিউনিটি পর্যায়ে নিজ উদ্যোগে ধর্মীয় যেকোন ভুল বোঝাবুঝি ও সংঘাত নিরসনে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানের আলোচক রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ড. রবিউল ইসলাম বলেন, আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে ইমামদের প্রশিক্ষণে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সমাজে ধর্মীয় সহ-অবস্থান বজায় রাখা সম্ভব।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রফেসর ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং নৈতিকতা শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন।

সংলাপে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিনিয়ার সহকারী পরিচালক একেএম মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ইতমধ্যে আমরা ইমামদের প্রশিক্ষণ শুরু করেছি। যাতে করে তারা মাঠ পর্যায়ে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং ভিন্ন ধর্মের মানুষদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়।

আলোচনায় হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টি তপন কুমার সেন বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। রাজনৈতিক স্বার্থ অর্জনের জন্য দেশের মধ্যে ধর্মীয় সংঘাত কাম্য নয়। এটা নিরসনে সমাজের সকলের সক্রিয় ইতিবাচক অংশগ্রহণ আবশ্যক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) বলেন, পুলিশের একার পক্ষে ধর্মীয় বিভিন্ন সংঘাত নিরসন করা সম্ভব নয়। আমরা সাধারণ জনগনকে সাথে নিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধিরা সার্বিকভাবে পুলিশকে সহায়তা করছে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায়।

তিনি আরও বলেন, যেখানেই ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে সেখানেই পুলিশ যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন, দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাহেরুল ইসলাম। সংলাপে সঞ্চলনা করেন, মনিরা রহমান মিঠি। সংলাপে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতিখায়ের আলম, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি অম্বর কুমার সরকার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অসিত কুমার ঘোষ, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সাবিত্রি হেমব্রম, জাতীয় বাহাই পরিষদের সহ-সভাপতি জামিলুর রহমান, রেভ-ফাদার প্যাট্রিক গোমেজ প্রমুখ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ