আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস ।। অভিবাসীদের প্রস্তুতি- প্রশিক্ষণ নিবিড় হওয়া চাই

আপডেট: ডিসেম্বর ১৯, ২০১৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

সবার জন্য নিরাপদ অভিবাসন এই স্লোগান নিয়ে রোববার আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালিত হয়েছে।
“উন্নয়নের মহাসড়কে, অভিবাসীরা সবার আগে’’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশে আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস পালন করা হয়েছে। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিবছর ১৮ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস পালন করা হয়।
বাংলাদেশে এই দিবসটি পালনের তাৎপর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা বাংলাদেশের এক কোটির উপর মানুষ বর্তমানে পৃথিবীর নানা দেশে অভিবাসী হিসেবে কাজ করছেন। তাদের পাঠানো রেমিটেন্স মূলত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। আজকের বৈদেশিক মুদ্রার যে উধমূখি রিজার্ভ তা অভিবাসীদের পাঠান ডলারের গুণে স্বস্তি, ভরসা ও নির্ভরতার সৃষ্টি করেছে। এটি এখন অনেক দেশের জন্য ঈর্ষনীয় যে, বাংলাদেশের বৈদেশিক রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য মতে শুধু চলতি বছরেই সাত লাখের বেশি লোক বিদেশে গেছেন, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য মতে, প্রবাসী কর্মীরা তাদের মেধা, শ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। সরকার দেশের প্রচলিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আধুনিকায়ন এবং তা উন্নত দেশের উপযোগী ও স্বীকৃত মানে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ করছে। সৌদী প্রবাসী ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার জন্য সেখানে ৯টি স্কুল ও কলেজ রয়েছে। বাংলাদেশেও স্কুল-কলেজ করা হচ্ছে। প্রবাসীদের কল্যাণে একটি ব্যাংক করা হয়েছে। বিনা খরচে এবং ব্যাংক লোনের মাধ্যমে কর্মীরা যাতে নিরাপদে বিদেশ যেতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রকের তথ্য মতে সরকার অভিবাসন প্রক্রিয়ার মান উন্নয়ন এবং অভিবাসী কর্মীদের জন্য ৫০টি উপজেলায় ৫০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। এতে বছরে কমপক্ষে ৫ লাখ দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে।
কিন্তু নতুন অভিবাসীদের বিদেশে কাজে যাওয়ার আগে কতটা প্রস্তুত করা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।  সরকারি বেসরকারি সকল পদ্ধতিতে পাঠানো শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক কিন্তু মাত্র তিন দিনের একটি প্রশিক্ষণ দেয় জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো। যাকে কোনোভাবেই যথেষ্ট বলা যায় না। এ প্রস্তুতি বিদেশে যেয়ে কাজ করার জন্য উপযুক্ত নয়। একজন শ্রমিক হিসেবে তাদের ন্যায্য প্রাপ্তি বা অধিকার সম্পর্কে কিছুই জানানো হয় না। শ্রমিক তার চুক্তির কাগজ হাতে পায় না। শুধু ভিসা আর টিকেট দেয়া হয়। এতে করে সে কি কাজ করবে বা কত টাকা আসলে পাচ্ছে এ ব্যাপারে তার কোনো ধারণা থাকে না। এ বিষয়গুলো প্রস্তুতি পর্বে খুব জরুরি যুক্ত করা উচিৎ। নারী ও পুরুষ সবাইকে একটা প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এ প্রশিক্ষণগুলোর সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক না হয়ে এগুলো বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। এই প্রশিক্ষণ অন্তত সাতদিনে উন্নীত করে শ্রমিকের অধিকার সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন করা হলে শ্রমিকদের প্রস্তুতিপর্বটা ভাল হয়।
মানসম্পন্ন কারিগরি শিক্ষা আরো অধিক গুরুত্বের দাবি রাখে। সনদসর্বস্ব কারিগরি শিক্ষা না হয় সে বিষয়ে নিশ্চয়তা থাকতে হবে। এতে করে দক্ষ মানবসম্পদ যেমন তৈরি হবে, অন্যদিকে অভিবাসী ওই ওইসব প্রশিক্ষিতরা বিশ্ব প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ করে নিতে পারবে। সেটাই আমাদের প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিৎ হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ