আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের সাত বছর

আপডেট: মার্চ ২৫, ২০১৭, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের উদ্যোগ নেয়। ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ গঠিত হয় আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল, তদন্ত সংস্থা ও আইনজীবী প্যানেল। আজ আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের ৭ বছর পূর্ণ হলো।
২২ মার্চ ২০১২ দ্বিতীয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ২৫ মার্চ ২০১২ আবুল কালাম আজাদ বা বাচ্চু রাজাকারের গ্রেপ্তারের আবেদন শোনার মধ্য দিয়ে কাজ শুরু হয় দ্বিতীয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
নতুন ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রথম ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর।
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রথম ট্রাইব্যুনাল গঠনের দুই বছর পর এই বিচার প্রক্রিয়া ‘ত্বরান্বিত’ করতে নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সরকার।
১৯৭৩ সালের ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট এর ৩/২ ধারায় অপরাধ তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন এবং ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ কোলাবোরেটর্স বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় তৎকালীন সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শুরু করেছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থনপুষ্ট হয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং কোলাবোরেটর্স আইনের আওতায় বিচারাধীন প্রায় ১২ হাজার মামলায় অভিযুক্তদের নিঃশর্তভাবে অব্যাহতি দিয়ে আইনটি রহিত করেন।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন হওয়া ৬ মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধেিক উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণআদেশ কার্যকর হয়েছে।
আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর ওই ছয় যুদ্ধাপরাধী হলোÑ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং জামায়াতের শূরা সদস্য মীর কাসেম আলী।
এর বাইরে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামিদের মধ্যে কেবল জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় এসেছে আপিল বিভাগে। ট্রাইব্যুনালে তাকে দেয়া সর্বোচ্চ সাজার রায় কমিয়ে আপিল বিভাগ আমৃত্যু কারাদণ্ডের যে রায় দিয়েছে, তার রিভিউ চেয়েছে দুই পক্ষই।
এছাড়া শুনানি চলার মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াত আমির গোলাম আযম ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় তাদের আপিলের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।