আন্তর্জাতিক সহিষ্ণুতা দিবস আজ II সম্প্রীতি ও শান্তির জন্যই সহিষ্ণুতা

আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

আমি মানুষ- মানুষ আমার, তুমি মানুষ- মানুষ তোমার, আমরা মানুষÑ মানুষ সবার। চিন্তা-চৈতন্যে এই বোধের ধারাই বাংলাদেশের সামাজিক সম্প্রীতির চিরকালীন সম্পদ। মানুষের মধ্যেকার এই সম্প্রীতির ধারাই শান্তি- সাম্যের ধারণাকে পুষ্ট করেছে। অনেক ভিন্নতার মধ্য দিয়েও মানবমিলনের ঐক্যের আকাক্সক্ষা সভ্যতার এক চিরসজীব-সুন্দার নির্মাণ মানবসভ্যতাকে নতুন নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে, উজ্জীবিত করে তুলেছে।

বহুত্ববাদের অনিশেষ দর্শন মানুষের মধ্যে মানুষের স্পর্ধাকে মনুষ্যবোধকে সৌন্দর্য-সম্ভারে, মমতা ও ভালবাসায়, আনন্দে ও বিষাদে, স্থির ও চঞ্চলতায় মহামান্বিত করে তুলেছে। এ দর্শনের মাহাত্ম্য মানব জীবনের ভীষণ ক্রুরতার মধ্যেও জাগরুক হয়ে থাকে। সমগ্র জীবনে কোথাও না কোথোও, কোনোভাবেই তা প্রাণ-সঞ্চার হয়ে টিকে থাকে। লোভ-লালসা, হিংসা, দ্বেষ, বিভেদের বাইরে এসে দাঁড়াতে পারলেই মানুষ হওয়া যায়। মানুষের স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য এমনই তো হওয়া বাঞ্ছনীয়।

বহুত্ববাদের ধারণা আমাদের সমাজ ক্ষেত্রে খুবই গভীরভাবে লালিত-পালিত হয়ে আছে। কিন্তু সমাজে দুর্বৃত্ত শক্তিও আছে, তারা সর্বদাই সমাজকে দ্বিধাবিভক্তির মধ্যেই দেখতে চায়। সহিংসতা ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। তারপরও সমাজ থেকে মানুষ হওয়ার বাসনা কখনোই শেষ হয়ে যায় না, যাবেও না।

বাংলাদেশে সহিংসতা-সন্ত্রাস ও অসহিষ্ণুতা যেমন আছে তেমনি মানব মিলনের বহুত্ববাদি ধারণাও আছে। রাজনৈতিক নানা টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে সহিংসতা-সন্ত্রাস ও অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের মধ্যে সহিষ্ণুতার বড়ই অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। সম্প্রীতি ও শান্তির জন্য এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। মানুষকে সবসমই জ্ঞান ও জ্ঞানীর সাথে থাকতে হবে। একটি সমাজ তখনই সুসভ্য হয়ে ওঠে যখন মানুষেরা ধর্ম-বর্ণ-বিভেদকে ছাড়িয়ে মনুষ্য জ্ঞানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। মানুষকে নিয়ে, মানুষের সাথে চলাই জীবনের সৌন্দর্যকে আলোকময় করে তোলে। এর জন্য সমাজ থেকে অসহিষ্ণুতার বীজ উপড়ে ফেলতেই হবে। আজ আন্তর্জাতিক সহিষ্ণতা দিবসে এটাই সর্বজনে সর্বজ্ঞানে উচ্চারিত হোক, অনুশীলিত হোক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ