আন্দোলনে সহিংসতা বাড়ছে

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

ক্ষতি যা সাধারণ মানুষের!
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিএনপি-জামাত ও সমমনা দলের ডাকা হরতাল- অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে দুর্বৃত্তরা সহিংসতা অব্যাহত রেখেছে। ইতোমধ্যেই বিরোধী দলগুলোর রাজপথের আন্দোলনের এক মাস অতিবাহিত হয়েছে। আশংকা করা হচ্ছে সামনের দিনগুলোতে সহিংসতা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। এ নিয়ে সাধারণ্যে উদ্বেগ-ভীতি কাজ করছে।

সংবাদ মাধ্যমে তথ্যে উঠে এসেেছ ঢাকায় গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের পর থেকে এক মাসে বাস-ট্রাক-ট্রেনসহ ২১৭টি যানবাহনে আগুন দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেবল বাসের সংখ্যাই ১৩৫টি। সেই সঙ্গে আগুন দেয়া হয়েছে রাজনৈতিক দলের কার্যালয় এবং সরকারি অফিসসহ ১১টি স্থাপনায়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানের তথ্যের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়Ñগত এক মাসে পুড়িয়ে দেয়া যানবাহনের মধ্যে ১৩৫টি বাস, ৩৭টি ট্রাক, ১৬টি কভার্ড ভ্যান, ৮টি মোটরসাইকেল এবং ২টি প্রাইভেট কার রয়েছে। এছাড়া ৩টি মাইক্রোবাস এবং একটি করে পিকআপ, অটোরিকশা ও লেগুনায় আগুন দেয়া হয়েছে। এসব যানবাহন ছাড়াও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তিনটি ট্রেনেও আগুন দেয়া হয়েছে এই সময়ে।

যে ১১টি স্থাপনায় আগুন দেয়ার খবর এসেছে, সেগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ অফিস, বিএনপি অফিস, কাউন্সিলর অফিস ছাড়াও পুলিশ বক্স, বিদ্যুৎ অফিস, বাস কাউন্টার ও শোরুম রয়েছে।

বৃস্পতিবার ৮ম দফা আন্দোলন কর্মসূচির শেষ দিনের পরবর্তী অর্থাৎ নবম দফার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি-জামাত ও সমমনা দলগুলো। আগামী রোববার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ ডাকা হয়েছে; যা মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় শেষ হবে।

এই আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা যে একেবারেই নেই সেটা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। তদুপরি বিচ্ছিন্নভাবে চোরাগুপ্তা সহিংসতার ঘটনা ঘটছে এবং তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচির ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। একই সাথে দেশের অর্থনীতির ক্ষতিটাও কম নয়। ইতোমধ্যেই যে সব ক্ষতি বা অগ্নি সংযোগের কারণে কিংবা বোমা নিক্ষেপে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের বড় অংশটুকুই সাধারণ মানুষ।

সহিংসতা চালিয়ে দাবি আদায়ের আন্দোলন যে মোটেও জনমানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় সেটা পরিষ্কার হয়েছে। এবং যে আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ থাকে না সে আন্দোন সফল হওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীনদের বুঝতে অসুবিধে হয় না যে, আন্দোলনে যতই তর্জন-গর্জন করা হোক না তা সফল পরিণতি পাবে না। আসন্ন নির্বাচনও ঠেকানো যাবে না। যা হবে তা একটি রাজনৈতিক দলের শক্তির চূড়ান্ত ক্ষয় সাধিত হবে, একই সাথে কর্মিসমর্থকদের মনোবলও ভেঙ্গে পড়বে। এই পরিস্থিতি কোনো রাজনৈতিক দলের জন্যই শুভফল বয়ে আনবে না।