আন্দোলনে স্থবির রাসিক ।। নগর ভবন ও চিড়িয়াখানায় আবারো তালা

আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাসিক ভবণের সামনে কর্মচারীদের বিক্ষাভ (বামে) । (ডানে) চিড়িয়াখানায় আগত শিশুদের অপেক্ষা- সোনার দেশ

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবারও এ দিনও তারা নগর ভবনের প্রধান ফটক এবং শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় তালা দিয়ে রেখেছে। এর ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে রাসিক। সমস্ত দাফতরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রার্থীরা।
গত রোববারের মতো গতকালও কর্মচারীরা নগর ভবনের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করে। এ কর্মসূচি চলে বিকেল পর্যন্ত। ফলে কোনো কর্মকর্তা সকাল থেকে ভেতরে ঢুকতে পারেননি। এমনকী সিটি করপোরেশনের সেবাপ্রার্থীরা মূল ফটকের সামনে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফিরে গেছেন। এছাড়া গত রোববারের মত গতকালও অনেক দর্শনার্থী চিড়িয়াখানা গিয়ে ফিরে যান।
এদিকে গত রোববার দুপুর তিনটার দিকে নগর ভবনের মূল ফটক খুলে দেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু চিড়িয়াখানা ও শালবাগানে থাকা করপোরেশনের গ্যারেজ খুলে দেননি তারা। তাদের এ ধরনের আন্দোলনে এক রকম স্থবির হয়ে পড়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন।
শ্রমিক-কর্মচারীরা নিজেদের ১১ দফা দাবিতে গত ১২ জুন কর্মচারীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। ওই মানববন্ধনের পর গত ১৯ জুন নগর ভবনে তালা দিয়ে কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করা হয়। ওই দিন আন্দোলনরত কর্মচারীরা ঘোষণা দিয়েছিলেন, দাবি আদায় না হলে ৯ জুলাই থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করা হবে। ফলে গত রোববার সকাল থেকে তারা সেই কর্মসূচি শুরু করেছেন।
তবে সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গতকাল সোমবারও নগর ভবনে ছিলেন না। নিজ দফতরের কাজে মেয়র ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গতকালও নগর ভবনের ভেতরে ও বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলো।
শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার মনিটরিং অফিসার শেখ আবু জাফর বলেন, গতকাল সকালে চিড়িয়াখানার একটি গেইট খুলে পশুদের খাবার ঢোকাতে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবে এ দিন তারা কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষেও তালা দিয়েছেন। সব কর্মকর্তাকে চিড়িয়াখানা থেকেও বের করে দেয়া হয়েছে। প্রাণভয়ে তারা চলে গেছেন। তবে চিড়িয়াখানায় কোনো দর্শনার্থী ঢুকতে পারছেন না।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল শেখ বলেন, গত বছরের ২৪ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে সিটি করপোরেশনের দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত দক্ষ নিয়মিত কর্মচারীদের দৈনিক ৫০০ টাকা এবং অদক্ষ অনিয়মিত কর্মচারীদের প্রতিদিন ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু গত এক বছরেও করপোরেশন কর্মচারীদের দৈনিক মজুরি বাড়ায়নি। অন্য সিটি করপোরেশনে সরকারি নিয়মে বেতন দেয়া হলেও রাসিকে ৩৩০ টাকা করে দেয়া হয়। এর ফলে রাসিকের ২ হাজার ২০০ জন কর্মচারী সরকারি নিয়মে তাদের মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই ১১ দাফা দাবিতে এই কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা।
কর্মচারীদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী মজুরি প্রদান, স্থায়ী কর্মচারীদের জ্যৈষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, স্থায়ী কর্মচারীদের গৃহ নির্মাণের ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা, মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পোষ্যদের চাকরি প্রদান এবং মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ।
এ ব্যাপারে মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় আছি। শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবির ব্যাপারে কথা বলার জন্য কাউন্সিলরদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমি রাজশাহী ফিরে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টির সমাধান করবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ