আন্দোলন করতে নাগরিক কমিটির কাছে ধর্না ।। বিএনপি দল হিসেবে এতটা হতোদ্যম!

আপডেট: অক্টোবর ২৭, ২০১৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ

বিএনপির সমর্থন নিয়ে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পবিরোধী আন্দোলন বেগবান করতে তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে বিএনপিকে সঙ্গে নেয়ার প্রস্তাব তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর জাতীয় কমিটি প্রত্যাখ্যান করে। এর প্রেক্ষিতে বুধবার এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব এই আহ্বান জানান। বিএনপি নাগরিকদের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তার দলকে নিয়ে আন্দোলন বেগবান করার প্রস্তাব দিলে প্রতিক্রিয়ায় নাগরিক এই কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ বলেছিলেন, “আমরা দীর্ঘদিন এটা নিয়ে আন্দোলন করে আসছি। এখন তিনি (খালেদা) উপলব্ধি করে সমর্থন করেছেন ভালো, তবে তাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সম্ভব না। এর প্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব আবারো একই প্রস্তাব দিলেন।
তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর জাতীয় কমিটি একটি নাগরিক সংগঠন। তারা তাদের দাবিতে অটল থেকে আন্দোলন করছে। যদিও সে আন্দোলনকে এখনো ব্যাপকতা দেয়া যায় নি। তবে সে প্রচেষ্টা নাগরিক সংগঠনটি করে যাচ্ছে। কিন্তু অবাক করার মত একটি বিষয় যে, বিএনপির মত একটি বড় রাজনৈতিক দল একটি নাগরিক সংগঠনের কাছে বারবার আহবান জানাচ্ছে যে, তাদেরকে ওই আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য বা বিএনপির সমর্থন নেয়ার জন্য। তা হলে বিএনপি স্বউদ্যোগে ওই আন্দোলটি করছে না কেন? বরং তা হলেই তো নাগরিক কমিটির দাবিটি আরো যৌক্তিক বিবেচিত হয়। একটি রাজনৈতিক সংগঠন কতখানি জনবিচ্ছিন্ন হলে এ ধরনের সমস্যার সম্মুখিন হয়!। রামপাল ইস্যুতে আন্দোলনের জন্য বিএনপিকে নাগরিক কমিটির আন্দোলনে সংযুক্ত হতে হবে কেন? বিএনপি কি এই আন্দোলনে সামর্থ নয়? বরং বিএনপি আন্দোলনের নতুন নতুন মাত্রা যোগ করবে যাতে অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সমর্থন- আন্দোলনে সহযোগী হয়ে চূড়ান্ত পরিণতি দিবেÑ কিন্তু বিএনপির বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হয় দলটি হতোদ্যম হয়ে পড়েছে। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। কোথাও যেন এক ধরনের হতাশা বিএনপিকে নিস্তেজ করে দিচ্ছে।
রাজনীতিতে ভবিষ্যতমুখিনতা এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ দুটি ক্ষেত্রে সক্ষমতা দেখাতে ব্যর্থ হলে দলকে নেতৃত্ব দেয়া যায় না। একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত দলটিকে দুর্বল, জনবিচ্ছিন্ন করে তুলেছে। এখনো দলটি তাদের সেই মরচেপড়া মোহ থেকে উঠে আসার কোনো সম্ভবাবনা তৈরি করতে পারছে না। জনগণের আকাক্সক্ষার সাথে নিজেদের মেলাতে পারছে না। জনগণের ভাবনা এক- বিএনপি ভাবে তার উল্টোটিÑ এ দিয়ে তো আর গণতান্ত্রিক দলের চেহারা তুলে ধরা যায় না। এখন খুবই প্রয়োজন অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দলটিকে একটি উদার গণতান্ত্রিক ধারণায় ভবিষ্যত পরিকলাপনা নিয়ে জনগণের সামনে আসা। বিএনপি যদি এখনো বাঙালিদের আহবহমান কাল দলে চলে আসা অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে অস্বীকার করেই চলে তা হলে বোধ করি তারা যে কর্দামাক্ত গর্তে পড়ে আছে সেখান থেকে উদ্ধার দুঃসাধ্য হবে। বিএনপির ভবিষ্যত রাজনৈতিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরিষ্কার হওয়া দরকার। জনগণ যদি তাদের স্বার্থ মিলিয়ে স্বচ্ছন্দ্যবোধ করে তবেই মুক্তি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ