আপন বলয় ভেঙে সাকিব

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বেসিন রিজার্ভে বাংলাদেশের সেদিন প্রথম অনুশীলন। নেটে শুরুর দিকে ব্যাট পেলেন সাকিব আল হাসান। করলেন বেশ অনেকক্ষণ। সবার পালা যখন শেষ, সাকিব নেটে ঢুকলেন আবার। আরো কিছুক্ষণ ব্যাটিং!
প্রথম ওয়ানডেতে ভালো খেললেও কাজটা শেষ করে আসতে পারেন নি। বাকি ম্যাচগুলোতে কেবলই নিজের ছায়া। রঙিন পোশাকে বিবর্ণ পারফরম্যান্সই কি ছাপ ফেলেছিল মনে? সাদা পোশাকে উজ্জ্বল হতেই বাড়তি একটু খাটুনি!
রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরির পর সেদিনের সঙ্গে যোগসূত্র খোঁজা যায় অনায়াসেই। সাকিব অবশ্য খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাইলেন না। “নাহ, এমনি করেছি দুবার নেট। মনে হয়েছে করা দরকার, করেছি। অত কিছু ভাবি নি।” নিজের ট্রেনিং-অনুশীলন নিয়ে কথা বলায় কখনোই খুব একটা আগ্রহী নন সাকিব। তার কাছ থেকে পাওয়া উত্তরটাও তাই বিস্ময়কর নয়। বরং ‘মনে হয়েছে করা দরকার’ বলে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ব্যাটিং নিয়ে বাড়তি কিছুর তাড়না ছিল তার ভেতরে।
সেই তাড়নায় এতটাই ধাবিত হয়েছেন যে ছাড়িয়ে গেছেন নিজেকে, ছাড়িয়েছেন দেশের সবাইকেও। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির ফর্মকে পেছনে ফেলার তাগিদ ছিল, সবুজাভ উইকেটে কিউই পেস আক্রমণ সামলানোর চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে সবচেয়ে বড় বোঝাপড়ার ব্যাপার ছিল নিজের সঙ্গেই। আপন আঙিনা আরো ছড়িয়ে দেয়া, সামর্থ্যের বলয় ভেঙে নতুন সীমানা ছোঁয়া।
অনুশীলনে যেমন ভেঙেছেন নিজেকে, তেমনি ভাঙলেন ম্যাচেও। রেকর্ড গড়া ২১৭, মুখোমুখি ২৭৬ বল। টেস্টে আগে কখনও দেড়শ ছুঁতে পারেন নি যিনি, টেস্টের বাইরে প্রথম শ্রেণিতে ছিল না ১৩০ রানও, কোনো পর্যায়ের ক্রিকেটেই খেলেন নি এত বড় ইনিংস, তিনিই পা রাখলেন সবচেয়ে উঁচু চূড়ায়।
সবচেয়ে মুগ্ধতা জাগানিয়া উন্নতি ছিল টেম্পারামেন্ট ও মানসিকতায়। ম্যাচের নানা বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে সাকিবের মানিয়ে নেয়ার সামর্থ্য নিয়ে টুকটাক প্রশ্ন উঠছিল। সাকিবের ব্যাটের চাবুকে বিদায় প্রশ্নগুলোর।
সামলেছেন নতুন বল পুরোনো বল। একের পর এক শর্ট বল করেছেন নিল ওয়াগনার, সাকিব ডাক করেছেন বলের পর বল। স্টাম্প ঘেঁষে আক্রমণ করেছেন ট্রেন্ট বোল্ট, সাকিব থামিয়েছেন, ছেড়েছেন। প্রলোভন ছুড়েছেন টিম সাউদি, বাইরে টানতে চেয়েছেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। সাকিব পা বাড়ান নি। ১৬১টি ছিল ডট বল!
অপেক্ষা করেছেন বাউন্ডারি বলের। যখন পেয়েছেন, লুফে নিয়েছেন। নামের পাশে তাই ৩১টি চার, এক ইনিংসে এটিও বাংলাদেশের রেকর্ড। দিনশেষে সাকিব শোনালেন, নিজেকে জয় করা খুব সহজ ছিল না! “উইকেটে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। অনেক পরিকল্পনা প্রয়োগ করতে হয়েছে। অনেক কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাটিং করতে হয়েছে। একটা সুবিধা ছিল, ওরা অনেকক্ষণ ধরে ভালো জায়গায় বল করতে পারে নি, বা একটা-দুইটা এদিক ওদিক করছে। বাজে বলগুলোতে রান করতে চেয়েছি। খুশি হওয়ার ব্যাপার হলো ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পেরেছি।”
টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুতে নেপিয়ারে বলেছিলেন, একসময় নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবলেও এখন আর ভাবেন না। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে আবার মুখোমুখি হলেন সংবাদমাধ্যমের। দল হেরেছে, নিজের পারফরম্যান্সে দারুণ কিছু নেই। চেহারায় ছিল যেন গ্রহণ। এবার সেই মুখে তৃপ্তির ছায়া। জানালেন, খুব করে চাইছিলেন দলের জন্য কিছু করতে। “চেষ্টা ছিল ভালো কিছু করার। অবদান রাখতে চাই সব সময়। বেশি করতে পারলে বেশি ভালো লাগে। সে দিক থেকে অবশ্যই পুরো ব্যাপারটা সন্তোষজনক।” সাকিব যেদিন নিজেকে নিয়ে তৃপ্ত হন, বুঝতে হবে বিশেষ কিছু। সাকিবের বিশেষ কিছু মানে বাংলাদেশ দলের বিশাল কিছু! বেসিন রিজার্ভের স্কোরবোর্ড আর দলের সবার সোনালী হাসিতে সেটিরই প্রতিফলন!-বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ