আফগানিস্তানে নারীশিক্ষা মুখ থুবড়ে পড়লো এই তালিবান সেই তালিবানই

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১, ১২:৩২ অপরাহ্ণ

তালিবান ২০ বছর আগে যেমন ছিল, তেমনিই আছে তালিবান। নতুন কোনো বৈশিষ্ট্য নেই, সে আশাও নেই। নারীর ছায়ার মধ্যে তারা পৃথিবীকে রসাতলে দেখতে পায়। তালেবানরা যেটা দেখতে পায় নাÑ সেটা হল- দেশটির প্রায় অর্ধেক মানুষ চরম দারিদ্র ঝুঁকির মধ্যে আছে; তাদের দ্রুত পুনর্বাসন করতে হবে, খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হবেÑ এসবের মধ্যে তারা নেই। তারা নারীদের কীভাবে গৃহবন্দি করবে, সেদিকেই তালেবান নেতৃবৃন্দ অধিক মনোনিবেশ করেছেন। কাবুল দখলের পরপরই বলা হচ্ছিল- ২০ বছরের তালিবান আর বর্তমান তালিবান এক নয়। দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা নমনীয় হবেÑ কিন্তু যারা এই ধারণা নিয়ে আশান্বিত হয়েছিল তারা যে ভীষণ নিরাশ তা বলাই বাহুল্য।
মেয়েদের শিক্ষার অধিকার কার্যত ছিনিয়ে নিল আফগানিস্তানের জেহাদি সরকার। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে খুলেছে সে দেশের উচ্চ প্রাথমিক স্কুলগুলি। ১৩-১৮ বছরের পড়ুয়াদের ক্লাসে ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশিকায় ঠাঁই পায়নি ছাত্রীরা। অর্থাৎ শুধুমাত্র ছেলেদের বিদ্যালয়ে আসার কথা জানানো হয়েছে আফগানিস্তানের শিক্ষামন্ত্রকের তরফে। অথচ তালিবান মুখপাত্র জানিয়েছিল, ‘চিন্তা নেই। মেয়েদের অধিকার কেড়ে নেয়া হবে না।’
নয়ের দশকের পরবর্তী সময় মেয়েদের শিক্ষার পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছিল। নারীশিক্ষার হার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩০ শতাংশ ছুঁয়েছিল। প্রাথমিক স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের সংখ্যা শূন্য থেকে পৌঁছে গিয়েছিল ২৫ লক্ষে। বর্তমান তালিবান জমানায় প্রাথমিকে স্কুলে ছাত্রীদের যাওয়ার উপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু সেকেন্ডারি স্কুলে আপাতত মেয়েরা যেতে পারছে না, এটা নিশ্চিত। কাজে ফিরতে পারছেন না শিক্ষিকারাও।
সেখানে নারীরা উন্নয়নের অংশিদার সেটা ভাবতেই রাজি নয় জেহাদিরা। তাদের পরিষ্কার বক্তব্য- নারীরা সন্তান জন্ম দিবে আর সন্তান লালন-পালন করবে। দেশটির নারী বিষয়ক মন্ত্রণায় ইতোমধেই পাল্টে গেছে। এখন ওই মন্ত্রণালয়ের নাম- প্রার্থনা, নির্দেশনা এবং পুণ্যের প্রচার ও পাপ ঠেকানো মন্ত্রণালয়। এখন ওই মন্ত্রণালয়ে নারীদের কোনেই প্রবেশাধিকার নেই। নারীরা চাকরি হারিয়েছে। তাদের কার্যালয়ে ডাকা হয় নি। অর্থাৎ দেশটির চাকরিরত নারীদের প্রায় সকলেই চাকরি হারাতে বসেছে বা হারিয়েছে। আফগানিস্তানে নারীদের যতটুকু অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল তার সবটুকু অর্থহীন হয়ে পড়েছে। অথচ ওই নারীরা আফগানিস্তানকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। অর্থনীতিতে এর যে মারাত্মক প্রভাব পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর পরই বিভেদের যে পুনরায় সূচনা হল তার পরিণতি মারাত্মক হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই দেশটির ১০ লাখ শিশু ক্ষুধার শিকার হয়েছে। সে গুলোর ব্যাপারে তআলবানদের কোনো আগ্রহ এখন পর্যন্ত লক্ষ করা যাচ্ছে না। অথচ দক্ষ জনশক্তিকে নিষ্ক্রিয় করার প্রয়াসটাই বেশি করে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অথচ দেশটির সরকার এখনো পাকিস্তান ছাড়া অন্য কোনো দেশ অনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি জানায়নি। এই অবস্থানটি নিশ্চিত হলে আফগানিস্তানের জেহাদি সরকার যে স্বরূপে সেই চিরচেনা ভয়ঙ্করূপে আত্মপ্রকাশ করবে না তার কোনোই গ্যারান্টি নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ