আফগানিস্তানে মানবিক বিপর্যয় দেশসমূহের সাহায্যই এই মুহূর্তে প্রয়োজন

আপডেট: জুন ২৭, ২০২২, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

আফগানিস্তানে দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়েছে ২৮ জুন ভোররাতে। দেশটির পাকতিকা প্রদেশে ঘটে যাওয়া ওই ভূমিকম্পের ধ্বসলীলায় সহস্রাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছে। ৬ দশমিক ১ মাত্রার প্রবল ভূমিকম্প ছিল সেটি। এর উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের খোস্ত শহরে এবং কেন্দ্র ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪৪ কিলোমিটার গভীরে।
তবে পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ যে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা ঠিক করে বলা যাচ্ছে না। জাতিসংঘ জরুরি আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব ও ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ওই ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে গেছে তিন হাজারের বেশি ঘরবাড়ি। এ অবস্থায় হাত দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালায় উদ্ধারকর্মীরা। এরই মধ্যে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেছে আফগান কর্তৃপক্ষ। তবে আশংকা করা হচ্ছে মৃত্যুহার দেড় হাজার ছাড়াতে পারে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ২৪ জুন ওই একই এলাকায় পুনরায় ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। এ ক্ষেত্রেও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আফগানিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। জাতিসঙ্ঘের রিপোর্ট বলছে গত ১০ বছরে ৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে ভূমিকম্পে। গড়ে প্রতি বছর ৫৬০ জনের ভূমিকম্পে মৃত্যু হয় আফগানিস্তানে। ২০২২ সালের মতো তীব্র ভূমিকম্প হয়েছিল ২০০২ সালেও। সেবারও হাজারের বেশি মৃত্যু হয়েছিল আফগানিস্তানে। ১৯৯৮ সালে একই ধরনের তীব্রতার ভূমিকম্পে সাড়ে চার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিলেন দেশটিতে। তার পরও সতর্ক হয়নি আফগান প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে চলতে থাকা অবিরাম অস্থিরতাই এই পরিকাঠামোহীনতার কারণ। তা ছাড়া তালিবান আমেরিকান সেনাবাহিনীকে উৎখাত করায় আর্থিক ভাবেও ধসে পড়েছে দেশটি। বিদেশের ব্যাঙ্কে দেশের বহু সম্পদ আটকে দেয়ায়, বিপদে পড়েছে আফগানিস্তান। গত বছর তালেবান ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই আফগানিস্তান একটি মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে।
তবে ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ- এমনই খবর দিচ্ছে সংবাদ মাধ্যমগুলো। বিবিসিকে ভূমিকম্প এলাকার বেঁচে যাওয়া লোকজন জানিয়েছেন, তাদের খাওয়ার মতো কিছু নেই, কোনো আশ্রয় নেই এবং তারা কলেরার প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা করছেন।
রাজধানী কাবুলে বসে দেশের প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ হাসান আখুন্দ অবশ্য জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সরবরাহ পাঠানো হচ্ছে বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে। তবে পাশাপাশি অন্য দেশগুলিকেও এগিয়ে আসতে বলেছেন তালিবান নেতা। গতবছরের আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দেশটি অর্থনৈতিকভাবে খুব দ্রুত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। নিজস্ব সম্পদ দ্বারা দুর্যোগ মেকাবিলা করার মত সক্ষমতা দেশটির নেই। তদুপরি দেশটিতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করার জন্য জাতিসংঘসহ উন্নত দেশগুলো বারবার পরামর্শ দিলেও তালেবান সরকার তা উপেক্ষা করে চলেছে। দেশটিতে এখনো ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে চলেছে। এর ফলে দেশটি বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকেই একরকম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যদিও দুর্যোগের পর জাতিসংংঘসহ বিভিন্ন দেশ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে আফগান সরকারের এই বোধোদয় হয়েছে যে, অন্য দেশের সহযোগিতা ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব নয়। তাই যদি হয়- তালেবান সরকারকে বাস্তবসম্মত উদ্যোগগুলো নিতে হবে- যাতে করে দিশটিতে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুরক্ষিত হয়। আফগানিস্তানের বিপন্ন মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়ার এখনই সময়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ