আফগানিস্তানে শুধুই অনিশ্চয়তা পরিণতি কি মানবিক বিপর্যয়?

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০২১, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

জাতিসংঘ আফগানিস্তানের ৩০ শতাংশেরও বেশি লোক খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতি বা সংকটজনক অবস্থার মধ্যে বসবাস করছে। সমস্যার এখানেই শেষ নয় রাষ্ট্র হিসেবে দেশটি আদৌ দাঁড়াতে পারবে কি না সে অনিশ্চয়তাও অধিক প্রলম্বিত হচ্ছে। দেশটিতে শান্তি যে সোনার হরিণ বোধকরি সেটা অন্বেষার সামর্থের মধ্যেও নেই। এখন এমন একটা পরিণতির কথা ভাবা হচ্ছে- দেশটিতে মানবিক বিপর্যয় আরো প্রকটরূপে আবির্ভুত হতে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মনবতার চরম অবমাননা, গণহত্যা ও নারী-শিশুদের লাঞ্ছনার কোনো পরিসীমা থাকবে না। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য থেকে এটা অনুমান করা যায়।
তথ্য বলছে, ২০০১ থেকে ২০২১, ২০ বছরের লড়াইয়ে দেশটিতে সামরিক আধা সামরিকের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা। বছরের পর বছর ধরে চলা সহিংস সংঘাতের কারণে লাখ লাখ মানুষ ভিটা ছাড়া হয়েছেন। অনেকে আফগানিস্তানের ভেতরেই ছিন্নমূল এবং গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। আরো বহু মানুষকে ব্যাপক দুর্ভোগ ও অনাহারের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার ঘোষণার পর থেকে বিশ্ববাসীর এটা এক ধরনের স্বস্তিদায়ক বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু স্বস্তির ব্যাপারটি যে নেহাতই বায়বীয় ধারণা সেটা অনুধাবন করতে বেশি সময় লাগেনি। জঙ্গি সংগঠন তালেবান বাহিনি ইতোমধ্যেই যে সব ফরমান জারি করেছে তাতে স্বস্তির কোনো উপায় নেই। বরং সেখানে মানুষের জন্য চরম অমর্যাদা ও অপমান অপেক্ষা করছে সেই বার্তাই সামনে এসেছে।
১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব বিদেশি সেনা আফগানিস্তান ছেড়ে যাবার পর দেশটির পরিস্থিতি কেমন হবে এটাই বিশ্বের মানুষের কাছে আলোচনার বিষয়। যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ইতোমধ্যেই ছড়িয়েছে তাতে ভয়ঙ্কর কিছুর জন্যই অপেক্ষা করতে হচ্ছেÑ অন্তত আফগানিস্তানের মানুষের জন্যতো বটেই। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ২৭ হাজার আফগান নিজের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। সব মিলিয়ে সেদেশে এ পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৩৫ লাখের বেশি। যে তালেবানকে পরাজিত করতে মার্কিন সেনারা তৎপর ছিল সেই তালেবানই এখন দ্রুতগতিতে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকা দখল করে নিচ্ছে। তালেবানের দাবি, তারা দেশটির ৮৫ শতাংশের বেশি এলাকা দখলে নিয়েছে।
দখলীয় এলাকায় ইতোমধ্যেই তালেবান বাহিনি সে দেশের নারীদের ঘরে থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে।
নিজেদের স্বরূপ প্রকাশ করে তালেবান বাহিনি দখলে থাকা এলাকা থেকে যৌনদাসী বেছে নেয়ার কাজ শুরু করেছে। দখলে থাকা শহরগুলিতে ধর্মগুরুদের উদ্দেশে একটি নির্দেশনামা জারি করেছে তালেবান কালচারাল কমিশন। সেখানে বলা হয়েছে, ‘তালিবান যোদ্ধাদের বিয়ে দেয়ার জন্য পাত্রী চাই। পাত্রীদের বয়স ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে হতে হবে। অথবা বিধবা হলে ৪৫ বছরের নীচে হতে হবে। তাঁদের বিয়ে করে পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে সবাইকে মুসলিম ধর্ম নিতে হবে।’ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশ পেতেই পড়তেই তীব্র চঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তালেবানের বর্তমান নির্দেশে ভয়ে কাঁপছে সে দেশের অভিভাবকরা।
এ থেকেই আফগানিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে আঁচ করা যায়। এবং সেটা যে মানবিক বিপর্যয়ের পরিণতি পেতে পারে সেটা ভাবলেই যেকোনো বিবেকবান মানুষ শিহরিয়ে না ওঠে পারে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ