আফগানিস্তান : উদ্বাস্তু শিবির থেকে টেস্ট ক্রিকেট মাঠে!

আপডেট: জুন ২৫, ২০১৭, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


খালি হাত। উদোম গা। পেটে ক্ষুধা। ঘর নেই। বাড়ি নেই। দেশ থেকেও নেই। মাথা গোজার ঠাঁই বলতে আছে তাবুটা। উদ্বাস্তু বা শরণার্থী শিবিরের তাবু। পরের দেশে এই তো তাদের পরিচয়। উদ্বাস্তু ওরা। কিন্তু সেই উদ্বাস্তুরা উদ্বাস্তু শিবির ছাড়িয়ে এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে। আফগানিস্তান এখন টেস্ট জাতি! উদ্বাস্তু শিবির থেকে তারা ঢুকে পড়েছে ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজাত টেস্ট ক্রিকেট মাঠে। একি ঘোরলাগা বিস্ময়!
বছরের পর বছর সন্ত্রাস ছিল ওই দেশের পরিচয়। সেটি হয়ে উঠেছিল মৃত্যু উপত্যকা। যেখানে জীবনের নিশ্চয়তা নেই কোনো। ১৯৮০ এর সোভিয়েত আগ্রাসণ। ২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবান শাসনের বিভীষিকা। যুদ্ধ আর যুদ্ধে দেশটাই বরবাদ। আফগানরা যে জীবন কাটিয়ে আজ নতুন পরিচয় পেয়েছে বিশ্বে সেটি সেই হিসেবে তো বিস্ময়করই। ক্রিকেট জাতি তারা এখন। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মর্যাদার ১২ ক্রিকেট দেশের একটি।
বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে উড়ে আসে খবর। এর জন্য প্রস্তুতিও ছিল আফগানদের। টেস্ট মর্যাদা পেয়েছে তারা! হয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির পূর্ণ সদস্য। কাবুল মেতে ওঠে উৎসবে। উৎসব আর আনন্দের ঢেউ লাগে গোটা দেশের আনাচে কানাচে। ঈদের আগে ঈদ ঢুকে পড়েছে আফগানিস্তানে।
এখন সারা বিশ্বে আইসিসির ১০৫টি সদস্য দেশ। সেই সদস্য পদের মধ্যেও তিনটি বিভাগ। পূর্ণ সদস্য, অ্যাসোসিয়েট সদস্য এবং অ্যাফিলিয়েট সদস্য। সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি পূর্ণ সদস্য পদ এতোদিন ছিল ১০ দেশের। আফগানিস্তানের সাথে আয়ারল্যান্ড যোগ হওয়ায় এখন সংখ্যাটা ১২। দ্বিতীয় ক্যাটাগরি অ্যাসোসিয়েট মেম্বর ৩৭টি। নীচের ক্যাটাগরিতে ৫৬ দেশ। ১৯৯৫ সালে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড গঠিত হয়। ২০০১ সালে তারা আইসিসির অ্যাফিলিয়েট সদস্য পদ পায়। ২০১৩ সালে অ্যাসোসিয়েট সদস্য পদ পাওয়ার ৪ বছর না পেরুতেই পূর্ণ সদস্য! রীতিমতো রেকর্ড!
এই উপমহাদেশে ক্রিকেট একটা ধর্মের মতো। কিন্তু ক্রিকেট খেলাটা আফগানিস্তানে তালিবান আমলে ছিল পাপ! দেশে খেলা নেই। পাকিস্তানে পালিয়ে গেছে শত হাজার আফগান পরিবার। সেখানেই ক্রিকেট আফগানদের রক্তে ঢুকে পড়ে। উদ্বাস্তু শিবির থেকে। ওখান থেকেই তাদের ক্রিকেট দলের গড়ে ওঠা। ক্রিকেটারদের গড়ে ওঠা। সেই উদ্বাস্তু শিবিরগুলোই ছিল আফগান ক্রিকেটের সূতিকাগার। তখনকার খালি হাত অন্যের তুলে দেওয়া খাবারে পূর্ণ হয়েছিল। তখনকার উদোম শরীর অন্যের কাপড়ে লজ্জা নিবারণ করেছিল। আজ নিজেদের যোগ্যতায়, চাওয়াকে পাওয়ার পরম প্রচেষ্টায় সবকিছু অর্জন করে ছেড়েছে রশিদ খান-মোহাম্মদ নবীদের দেশ।
দ্রুত উন্নতি, যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত দেশটির ক্রিকেট সম্ভাবনা, কাঠামোর পরিবর্তন এনে সাফল্য পাওয়ার প্রতিশ্রুতি আফগান ক্রিকেটে আছে। যদিও এখনই সেদেশে গিয়ে কারো ক্রিকেট খেলার সম্ভাবনা তেমন দেখা যায় না। নিজের দেশে তাদের লিগ আছে, ক্রিকেটে বিনিয়োগ আছে। আছে তাদের প্রতিটি ম্যাচ টেলিভিশনে সরাসরি দেখানোর, সোশাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ার নিশ্চয়তা। তবু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ওই দেশে কখনোই ছিল না। তবু তারা টেস্ট জাতি এখন। বিশ্ব ক্রিকেটে সবচেয়ে ধারাবাহিক উন্নতির প্রমাণ দিয়ে সীমিত ওভারের খেলায় সফল। এবার সাদা পোষাকে প্রবল প্রতিপক্ষের সাথে লড়াইয়ের অপেক্ষা তাদের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ