আফগানিস্তান মুসলিম দেশের স্বীকৃতি চায় স্বয়ং তালিবানই ভয়াবহ সমস্যা

আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২২, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

আফগানিস্তানের ক্ষমতাদখলকারী তালেবান সরকার অসহায়ত্বের শেষ পর্যায়ে মুসলিম দেশগুলোর স্বীকৃতি প্রার্থনা করেছে। এই স্বীকৃতি তারা শাসকদের জন্য চাইছে না, সাধারণ মানুষের জন্যই তা চায়। বুধবার আফগানিস্তানের অন্তর্বতী সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মহম্মদ হাসান আখুন্দ এই আহবান জানিয়েছেন।
আখুন্দের এই আহ্বানই সরকারের ভীষণ অসহায়ত্বের প্রকাশ ঘটেছে। তার কথায় এটা পরিষ্কার করেছে যে, আফগানিস্তানের আন্তবর্তী সরকারকে স্বীকৃতি দেয়ার অন্তরায় হিসেবে তালিবান ও তাদের অমানবিক কর্মকা-ই একমাত্র দায়ি। তিনি দেশটির সাধারণ মানুষের জন্য মুসলিম দেশগুলোর স্বীকৃতি চেয়েছেন। দেশটির সাধারণ মানুষ নিদারুণ খাদ্য সঙ্কটের মুখে পড়েছে- এই পরিস্থিতিতে ওই মানুষদের সহযোগিতার খুবই প্রয়োজন। কিন্তু তালিবান সরকার যে অবস্থানে নিজেদের রেখেছে তাতে দেশটিতে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। বরং সেই দলটি তাদের কট্টরপন্থা থেকে, অমানবিক আচরণ থেকে, নারীদের প্রতি বৈষম্য ও নিষ্ঠুরতার অবস্থান থেকে সরে আসলেই দেশসমূহের সাথে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে- কিন্তু সে ক্ষেত্রে দেশটির আন্তবর্থীকালীন সরকার একরোখা মনোভাব ও কট্টরতা দেখিয়ে আসছে। তাদের অবস্থান পরিবর্তনে নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে। তাতে কেন মুসলিম দেশসমূহ কিংবা অপরাপর দেশগুলো তাদের চাতুরতায় নিজেদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে?
আফগানিস্তানের পরিস্থিতি কিন্তু ক্রমশই ভয়াবহতার দিকেই যাচ্ছে। দেশটির ৮০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করছে। দুই কোটিরও বেশি মানুষ চরম খাদ্য সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে। পরিস্থিতি কত নাজুক হলে নিজের শিশুকন্যাকে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে- অপর সন্তানদের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেয়ার জন্য। সরকারি কর্মচারিদের বেতন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিদেশে আফগানিস্তানের দূতাবাস কর্মচারিদেরও বেতন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। রাষ্ট্রদূতকে চাকরি ছাড়তে হচ্ছে। ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে তালিবান সরকার কট্টরতা থেকে সরে আসছে না। আর পরিষ্কারভাবে তালিবান সরকার তাদের অবস্থান পরিবর্তন এবং দৃশ্যমান পরিবর্তন ছাড়া পরিস্থিতির যে কোনো উন্নতি হবে না তা অনুমান করা যায়।
মুসলিম দেশগুলোও পৃথিবীতে একঘরে নয়। তাদের কে বিশ্ব-বাস্তবতার নিরিখেই দেশ পরিচালনা করতে হয়। বাস্তবতা এমনই যে, দেশসমূহের পরস্পর সহযোগিতা ছাড়া মোটেও চলা সম্ভব নয়। তালিবান চাইলেও যে স্বীকৃতি মিলে যাবে এমনটি ভাবার সুযোগ নেই বললেই চলে। আর সেটা সম্ভব হলে তালিবান সমর্থক দেশগুলো অনেক আগেই তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দিত। কিন্তু ৫ মাসেও ওই সব দেশও স্বীকৃতি দেয় নি। আর একটি পশ্চাদপদ বর্বর ধারণার সরকারতে কেনই বা স্বীকৃতি দিবে? স্বীকৃতির দেয়ার মত নৈতিক অবস্থান তাদের নেই। রাজনৈতিক কারণে কোনো কোনো দেশ তালিবানের প্রতি উৎসাহ-সমর্থন জানিয়েছিল বটে তবে তা শেষ বিবেচনায় স্বীকৃতি দেয়ার অবস্থায় যায় নি। পরিস্থিতিটা আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারকেই উপলব্ধি করতে হবে। দেশটির বর্তমান করুণ পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ি। দেশের মানুষের প্রতি এতোটুকু দায়বোধ থাকলে তাদের চরিত্র পাল্টে নিজেদের মানবিক বলে প্রমাণ করাই গুরুত্বপূর্ণ হবে। সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন হতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ