বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

আবরার হত্যায় অভিযুক্তরা আজীবন বহিষ্কার শাস্তি কঠিন, যা ওদের প্রাপ্য ছিল

আপডেট: November 24, 2019, 1:27 am

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বুয়েটের ২৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আরও ছয় শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদ বহিষ্কার করা হয়েছে। আবরার ফাহাদ হত্যায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুয়েটের বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিন বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
শাস্তি কঠিনই হয়েছে, যা তাদের প্রাপ্য ছিল। অপরাধের মাত্রাটা এতোই ব্যাপক ও জঘন্য যে, ওরা সহানুভূতি পাওয়ার কোনো অধিকারই রাখে না। দেশের মানুষের প্রত্যাশাও তেমনি ছিল যে, বুয়েট কর্তৃপক্ষ তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুক। আইনি শাস্তির ক্ষেত্রে দেশের মানুষের একই মনোভাব।
ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ।
গত ১৩ নভেম্বর এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান।
অভিযুক্তদের প্রায় সকলেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মি। অভিযোগ মতে অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার সাথে পিটিয়ে আবরারকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার হলে নৃশংসতার ধরনে দেশের মানুষ স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। বুয়েট এর শিক্ষার্থীসহ সারা দেশেই এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠে দেশের মানুষ। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সারা দেশে আলোচনার ঝড় তোলে আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। সরকারও বিষয়টিকে মোটেও রাজনৈতিকভাবে না নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ত্বরিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পুলিশ অত্যন্ত তড়িৎগতিতে হত্যা-ঘটনার তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করে। মামলা চলমান রয়েছে। এমন সময় বুয়েট কর্তৃপক্ষ তদন্তের পর অভিযুক্ত ২৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করলেন।
ছাত্রলীগ ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন হলেও অভিযুক্ত নেতাকর্মিদের ব্যাপারে কোনো ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ করেনি। আইন তার নিজের গতিতে চলেছে। বরং খুবই দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে সব ধরনের উদ্যোগকে সমর্থন ও উৎসাহিত করেছে। এটি রাজনীতির একটি মৌলিক ও গুনগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অপরাধী কোনোভাবেই দলীয় আনুকূল্য পাওয়ার যোগ্য নয়Ñ সেটা ক্ষমতাসীন দল প্রমাণ করলো। জাতীয় রাজনীীততেও এটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো।
আবরার হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী পদক্ষেপে ক্ষমতাসীন দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মিদের জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো। অন্যায় করলে যে, দল রক্ষা করবে না এই ম্যাসেজ নেতাকর্মিদের সতর্ক করবে এবং অন্যায় কিছু সংঘটিত করতে গেলে অন্তত চিন্তা করতে হবে যে, সে যত বড়ই নেতা হোন, আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবে না। সমাজে এই ধারাই প্রতিষ্ঠা লাভ করুক। এতে জাতীয় রাজনীতির গুনগত মান যেমন বাড়বে তেমনি দেশের মানুষ রাজনীতির প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করবে। একই সাথে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ