বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

আবহাওয়ার তারতম্যে জয়পুরহাটে রোটা ভাইরাসের প্রকোপ

আপডেট: March 4, 2017, 12:10 am

জয়পুরহাট প্রতিনিধি



হঠাৎ করেই জয়পুরহাটে রোটা ভাইরাসের (ডায়রিয়া) প্রকোপ বেড়ে গেছে। গত দুই সপ্তাহে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় পাঁচশ শিশুকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন ২০-২৫ জন আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসছেন তাদের বাবা-মা। হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এসব শিশুদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মেঝেতে জায়গা দিয়ে তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত ১৮ জন শিশু ভর্তি আছে। বৃহস্পতিবার ৪০ জন ভর্তি থাকলেও চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ায় ২৩ জনকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫’শ রোগী ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। যাদের প্রায় সবাই এক থেকে পাঁচ বছর বয়সের শিশু। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় তাদের বারান্দায় বেড দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শহরের বুলুপাড়া মহল্লার দেড় বছরের শিশু কন্যা মাওয়া’র মা ফারজানা আক্তার জানান, পায়খানার পাশাপাশি বমি শুরু হলে বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। স্যালাইন দিয়ে রাখা হলেও কিছুতেই পায়খানা কমছে না।
একই অবস্থার কথা জানান নওগাঁর ধামুরহাটের মরল গ্রাম থেকে আসা দুই বছরের শিশু মোহনার নানি মাজেদা বেগম। বৃহস্পতিবার সকালে নাতিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন তিনি। চিকিৎসা চললেও কমছে না পেটের ব্যাথা। শুধু মাওয়া বা মোহনা নয় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সব শিশুর অভিভাবকরাই জানান, হঠাৎ করেই তাদের শিশুরা পায়খানার পাশাপাশি অনর্গল বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা রওশন আরা ও বিলকিস বেগম জানান, ওষুধের দোকানে গিয়ে জ্বরের কথা বললেই ওষুধ দোকানদাররা যে ওষুধ দিতেন তাতেই ২/৩ দিনের মধ্যেই জ্বর ভালো হয়ে যেত। কিন্তু এ বছর সে সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে।
জয়পুরহাট মডার্ন জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে আর আগের মত কাজ হচ্ছে না। কারণ পল্লী চিকিৎসকদের পরামর্শে, না হয় ওষুধ বিপণীগুলো থেকে রোগীরা নিজেদের পছন্দ মত বা ফার্মাসিস্টদের কিংবা পল্লী চিকিৎসকদের ইচ্ছে মত এন্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ সেবন করে থাকেন।
ফলে অন্যান্য রোগের মতই উচ্চ ক্ষমতার এন্টিবায়োটিকেও  টাইফয়েড জ্বর যাচ্ছে না। এতে করে মানবদেহে রোগটি হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদী।
বাস্তবতা স্বীকার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খুরশিদ আলম জানান, খাদ্য, পানি ও মানুষসহ জীব-জন্তুর মলবাহিত এক ধরনের জীবাণু থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমণের ফলে টাইফয়েড জ্বর নামক এ রোগটির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
হাসপাতালে কর্তব্যরত স্টাফ নার্স বিউটি বেগম জানান, প্রতিদিন হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ২-৩ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান জানান, গত দুই সপ্তাহে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৫’শ শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার তারতম্যের পাশাপাশি অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতা থেকে রোটা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে।