আবারও যুক্তরাষ্ট্রে হামলার হুমকি উত্তর কোরিয়ার

আপডেট: আগস্ট ২২, ২০১৭, ১:২৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ভূখ-ে ‘নির্বিচার হামলার’ হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়াকে সামনে রেখে পিয়ংইয়ং এ সতর্কতা দিয়েছে। সোমবার (২১ আগস্ট) থেকে শুরু হতে যাওয়া ওই মহড়াকে বেপরোয়া আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে বলেছে, কোনও ধরনের বেপরোয়া আচরণ দেখা গেলে ‘পরিস্থিতি একটি পারমাণবিক যুদ্ধের অনিয়ন্ত্রণযোগ্য অধ্যায়ে মোড় নেবে’।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ১০ দিনের ওই সামরিক মহড়ায় কয়েক হাজার সেনা অংশ নিতে যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় বাহিনীকে প্রস্তুত করার কথা মাথায় রেখে মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ মহড়াকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে উত্তর কোরিয়ার দাবি, এ মহড়া ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রোডং সিনমুনের এক সম্পাদকীয়তে এ অনুশীলনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে বেপরোয়াভাবে পারমাণবিক যুদ্ধের জন্য যে অনুশীলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তা একটি বেপরোয়া আচরণ যা পরিস্থিতিকে পারমাণবিক যুদ্ধের অনিয়ন্ত্রিত ধাপে নিয়ে যাবে।’
সম্পাদকীয়তে সতর্ক করে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখ-, হাওয়াই কিংবা গুয়ামে যেকোনও সময় হামলা চালাতে পারে। দেশটির দাবি, এ ধরনের ‘নির্বিচার হামলা’ চালানো হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ঠেকাতে ব্যর্থ হবে। আরেকটি আর্টিকেলে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উচিত যেকোনও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে উত্তর কোরিয়া সরকার যে সতর্কতা দিয়েছে তা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত।’
ওই আর্টিকেলে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বেপরোয়া কর্মকা- দেশটির চূড়ান্ত ধ্বংস ডেকে আনবে।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই কোরীয় উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের এই সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার প্রধান আন্তর্জাতিক মিত্র ও বাণিজ্যিক অংশীদার চীন এই মহড়া বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। একই আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়াও।উ. কোরিয়ার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার বিপরীতে মার্কিন প্রস্তাবে সমর্থন দিয়ে জাতিসংঘের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটন উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। শুরু হয় দ্ইু দেশের শীর্ষ নেতার পারস্পরিক হুমকিধামকি। এক পর্যায়ে উ. কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ামের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। জবাবে দেশটিকে ‘ধূলায় মিশিয়ে দেওয়া’র হুমকি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় এবার সাড়ে সতের হাজার সেনা অংশ নিচ্ছেন। গত বছর এই মহড়ায় ২৫ হাজার মার্কিন সেনা অংশ নিয়েছিলেন।তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সংখ্যা কমিয়ে আনার কারণ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস। তিনি বলেন, মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাদের সংখ্যা নির্ভর করে অনুশীলনের লক্ষ্য অর্জনের ওপর। যা প্রয়োজনীয় তা গ্রহণ করা হয়। এই মুহূর্তে কমান্ড পোস্ট অভিযানের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। ফলে যৌথ মহড়ায় সেনা কমিয়ে আনতে হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ