আবারো জঙ্গি তৎপরতা || প্রতিকারে জনসম্পৃক্তির কর্মসূচি চাই

আপডেট: মার্চ ২১, ২০১৭, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

হঠাৎ করেই জঙ্গি তৎপরতা আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও দেশবাসীর নজর কেড়েছে। পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ধারাবাহিকভাবে জঙ্গি দমনে সফলতা দেখিয়ে আসছে। জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধিতে মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ যেমন আছেÑ তেমনি পুলিশ ও র‌্যাবের সফলতাও মানুষকে সাহস যোগাচ্ছে।
রাজশাহী অঞ্চলে আবারো সংগঠিত হতে চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত তিন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। এ চেষ্টায় রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাতুল  জিহাদ ও হিযবুত তাহরির। দৈনিক সোনার দেশে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নানা ছদ্মবেশে জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা সাংগঠনিক তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণে তারা সুবিধা করতে পারছে না। গত দুই মাসে বৃহত্তর রাজশাহীর নাটোর, নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অন্তত অর্ধশতাধিক শীর্ষ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ ও হিযবুত তাহরিরের সক্রিয় সদস্য। এছাড়া গত ১ মার্চ গোয়েন্দা পুলিশের ওপর হামলাকারী নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চল শাখার সামরিক কমান্ডার আমিজুল ইসলাম বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
রাজশাহী অঞ্চলে কর্মরত গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এখন জিরো টলারেন্স নীতি পুলিশের। তাই অভিযানের কারণে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় তাড়া খেয়ে জঙ্গিরা এ অঞ্চলে আশ্রয়  নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। জঙ্গিদের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই এ অঞ্চলে জঙ্গিরা আশ্রয় নেয়ার কোনো সুযোগ পাবে না।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী অঞ্চলে নিষিদ্ধ ঘোষিত তিনটি জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা গত তিন মাস থেকে বেড়েছে।
২০০৪ সালের ৩১ মার্চ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় রাজশাহীর বাগমারায় সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে  প্রকাশ্যে জেএমবি জঙ্গিদের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ওই সময় তারা রাজশাহী অঞ্চলের অন্তত ২৪ জন নিরীহ ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করেছিল।
ইদানিং জঙ্গিবাদের সাথে পরিবারের সম্পৃক্ত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। দেশের অভ্যন্তরে কয়েকটি ঘটনায় তেমনটিই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জঙ্গি কাজে নারী ও শিশুরা মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। পুরো পরিবার জঙ্গি ইউনিট হিসেবে কাজ করছে। তবে নারী ও শিশুরা মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার হলেও শিশু ও নারীরা উভয়েই বিপজ্জনক হিসেবে আবির্ভুত হচ্ছে। তাদেরকে সেভাবেই প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। শিশুরা পর্যন্ত আত্মহুতি দিতে কার্পণ্য বোধ করছে না।  এটা খুবই উদ্বেগজনক যে, পুরো পরিবার জঙ্গিবাদে দীক্ষিত হলে তাদের বাড়ি ভাড়া নিয়ে তৎপরতা চালাতে ঝুঁকি কম। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহের বাইরে থাকাটা সহজ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখতে অভ্যস্ত হয়।
জঙ্গিবাদ নির্মূলের জন্য শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট নয়। সামাজিকভাবে প্রতিরোধের জন্য দেশের মানুষকে সম্পৃক্ত করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের কোনো কর্মসূচি নেই।
জঙ্গিদীক্ষার মনস্তাত্বিক কারণগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা তৈরি করার সময় এসেছে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলোকে সনাক্ত করে সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। তবেই প্রতিকারের উপায় পাওয়াটা সহজ হবে বলে আমরা মনে করি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ