আবারো বন্ধ হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি বিধিনিষেধ মানাবে কে?

আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২২, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

শেষ পর্যন্ত বন্ধই করতে হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন যে ভাবে দ্রুততার সাথে ছড়াচ্ছে তাতে ভবিষ্যত খারাপ কিছুরই ইঙ্গিত দেয়। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থাই কাম্য। সেই নিরিখেই স্বাস্থ্য মন্ত্রী শুক্রবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেন। দেশের সব স্কুল, কলেজ ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও একই ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়ে শুক্রবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই সশরীরে ক্লাস নেয়া থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কোনো সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে একশ জনের বেশি মানুষের সমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যারা যোগ দেবেন, তাদের অবশ্যই টিকা সনদ অথবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করা পিসিআরে কোভিড টেস্টের রিপোর্ট দেখাতে হবে।
সরকারি, বেসরকারি অফিস এবং শিল্প কারখানায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিকা সনদ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
বাজার, শপিং মল, মসজিদ, বাস স্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেল স্টেশনসহ সাধারণ লোকসমাগমের স্থানে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
করোনা সংক্রমণ যে গতিতে এগোচ্ছে তাতে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। বিশ্ব বাস্তবতায় ওমিক্রন আগ্রাসনকে মোটেও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। সংক্রমণ ঠেকাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত সঠিক সিদ্ধান্তই হয়েছে। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিরোধিতাও করা হচ্ছে। কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতেই ঝুঁকি নেয়া সমীচীন নয়। বরং এই মুহূর্তে সে দিকেই বেশি মনোনিবেশ করা বাঞ্ছনীয় হবে যে, যাতে করে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সরকারি বিধিনিষেধগুলি মান্য করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মাঠ পর্যায়ে বিধিনিষেধ মানার কোনো গরজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি প্রায় সর্বত্রই উপেক্ষিত হচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বাইরে অবাধ বিচরণ করছে অথচ মাস্ক ব্যবহার করছে না। এই প্রবণতা অসুস্থ মানসিকতারই পরিচয় বহন করে- যারা নিজেদের ক্ষতির সাথে সাথে তার পরিবারসহ অন্যের ক্ষতির কারণ হতে চাচ্ছে। এই আত্মঘাতি প্রবণতা থেকে দ্রুত বেরিয়ে এসে সর্বত্র স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
বিধিনিষেধ মানার বাধ্যবাধকতার জন্য প্রশাসনের উদ্যোগও খুব একটা দৃশ্যমান নয়। বাধ্যবাধকতা ছাড়া পরিস্থিতি উন্নতির কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে বিধিনিষেধ মানাতে প্রশাসনের উদ্যোগ এখনই নেয়া প্রয়োজন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ