আবারো বাড়লো চাল ও পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত সবজি, মাছ ও মাংসের দাম

আপডেট: September 25, 2020, 9:37 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর বাজারে আবারো চাল ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। বাজারে প্রতিকেজিতে চালের দাম বেড়েছে ১ থেকে ২ টাকা। আর প্রতিকেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজি, মাছ ও মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এতে খুচরা বাজারেও দাম বেশি। আর মৌসুমের অগ্রিম কিছু সবজি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে যেগুলো বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজের দাম আবারো বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি পাইকারি ব্যবসায়ীদেরও দায়ী করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, পেঁয়াজের দাম বাড়লেই খুচরা ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়ে। পাইকাররা দাম বাড়ায় আর প্রশাসন তাদের জরিমানা করেন। তারা আরো জানান, অধিকাংশ পাইকারি ব্যবসায়ী সকাল ৯ টা থেকে ১০ টার মধ্যে বেচাবিক্রি করে ফেলেন। এ সময় তারা যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেন খুচরা ব্যবসায়ীরা তার থেকে দু-পাঁচ টাকা লাভ রেখে বিক্রি করেন। অথচ ১০ টার পরে ম্যাজিস্ট্রেট এসে তাদের কেনা দামের চেয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বলছেন। কিন্তু পাইকারি ব্যবসায়ীদের কিছুই হয় না।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে। আর এই কারণেই দাম বেড়েছে।
এদিকে, সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বাড়তি দরেই বিক্রি হচ্ছে মিনিকেট ও আঠাশ চাল। বাজারে প্রতিকেজি মিনিকেট চাল ৫২ থেকে ৫৬ টাকা, আঠাশ ৪৮ থেকে ৫৩ টাকা দরে বিক্রি হয়। আর সুমন স্বর্ণা ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নগরীর সাহেব বাজার ও মাস্টার পাড়া ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি ছিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, প্রতিকেজি সজিনা ২০০ টাকা, প্রতিকেজি ফুলকপি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা ও মরিচ প্রতিকেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা।
এছাড়া প্রতিকেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, আলু ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ঝিঙা-চিচিঙা-ধন্দুল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল আকার ভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কচু ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, ডুমুর ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও কাঁচা কলা ২৫ থেকে ৩০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সবধরনের শাকসবজি। বাজারে প্রতি আঁটি লাল শাক বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা, কলমি শাক ৩০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা, সবুজ শাক ৩০ টাকা কেজি ও পালং শাক ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। এছাড়া প্রতিকেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। আদা ১০০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে ইলিশ মাছ আকারভেদে ৩৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাতল মাছ ৩৬০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা কেজি, রুই মাছ ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ব্রইলার ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজি, দেশি মুরগি ৩৬০ টাকাসহ সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৯০ টাকা কেজি।
চালসহ পেঁয়াজের দাম আবারো বৃদ্ধি পাওয়ায় অস্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। ক্রেতা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, করোনাকালের এই দুর্দিনে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তেই আছে। এতে তাদের মতো নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা ভোগান্তিতে পড়ছে। এ সময় বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরো তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।