আবারো ভরাট হচ্ছে নারোদ, খননকৃত নদীতে নেই পানির প্রবাহ

আপডেট: September 18, 2020, 12:09 am

নিজস্ব প্রতিবেদক :


পুণঃখনন করার ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নদীতে এখনো পানির প্রবাহ শুরু হয়নি। এছাড়া তদারকির অভাবে নদীর দু’পাশের পাড়ে রোপনকৃত বনায়ন কেটে জমি দখল করছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি মাত্র কালভাট না থাকায় এই নদীর পানি প্রবাহ বন্ধের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার কারণে পুনরায় মরতে বসেছে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে খননকৃত নারোদ নদী। স্থানীয় ও কৃষকদের অভিযোগ করে বলেন, নদীটি পুনঃখনন করায় এই এলাকায় বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন ও খরা মৌসুমে আবাদি জমি গুলোতে সেচ ব্যবস্থার সুবিধার আশা করলেও তা হচ্ছে না।
বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন অফিস সূত্রে জানাগেছে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বরেন্দ্র এলাকায় খাল ও নদীর পানি সংরক্ষণ ও সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দখল এবং ভরাট হয়ে যাওয়া নারোদ নদীটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়া হয় কর্তৃপক্ষ। নারোদ নদী চারঘাট উপজেলার মুক্তারপুর বালুঘাট এলাকার পদ্মা নদী থেকে পুঠিয়া উপজেলার মধ্যে দিয়ে মুসাখাঁ নদী পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য। আর তা পুনঃখনন ও নদীর দু’পাড়ে বনায়ন কাজে বরাদ্দ ছিল চার কোটি ৩২ লাখ টাকা। অবৈধ দখলমুক্ত ও বিলীন হয়ে যাওয়া নদীটি পুনঃখনন করে পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকলে খরা মৌসুমে এ অঞ্চলের এক হাজার ৬৫০ হেক্টর কৃষি জমি সেচের আওতায় আসতো। এছাড়া নিম্নাঞ্চলের জমিতে বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘদিন জমে থাকা অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে সহায়ক হত। তবে খননকৃত নদী থেকে পানি তুলে সেচ কাজে ব্যবহারে জন্য ইতোমধ্যে নারোদের ১৩ টি স্থানে সোলার প্যানেল ভিত্তিক অগভীর নলকুপ (ডিপ) স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু চারঘাট-সারদা ট্রাফিক মোড়ের নিকট একটি কালভাট সংস্কার ও সম্প্রসারণ করতে না পারায় পদ্ম নদী থেকে পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ রয়েছে। এছাড়া নদীর কয়েকটি স্থানে সড়ক পথ থাকলেও সেখানে নেই কালভাট। যার কারণে নদীর ওই স্থানগুলোতেও পানির স্রোতধারা বন্ধ রয়েছে। ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় খননকৃত নদীর দুই পাড় ধসে তলদেশ আবারো ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় স্থানীয়দের সাথে। বালদিয়াড় এলাকার আরিফুল ইসলাম বলেন, নদীটি দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করার এখন প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু বিগত দিনে নদী ভরাট করে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা তৈরি করা রয়েছে। অথচ ওই রাস্তা গুলোর নিচে কালভার্ট না থাকায় বিলের পানি নদীতে নামলেও তা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এরমধ্যে খননকৃত নদীর কয়েকটি স্থানে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দখল করে মাছ চাষ শুরু করেছেন। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে নদীর দু’পাড়ে রোপনকৃত বিভিন্ন প্রকার গাছপালা এখন কেটে সাবাড় করা হয়েছে।
নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক বালাদিয়াড় এলাকার দুই ব্যক্তি জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বহীনতায় গাছ কেটেছে প্রভাবশালী মহল। নদীটি আবারো দখলের পায়তারা চলছে।
এ ব্যাপারে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পুঠিয়া আঞ্চলিক কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, নারোদ নদী দখলমুক্ত করে প্রায় ৫ বছর আগে পুনঃখনন করা হয়েছে। নদীর উপরে থাকা কয়েকটি রাস্তার নিচে পাইপের মাধ্যমে পানি যাতায়াতের ব্যবস্থা করা আছে। এছাড়া খরা মৌসুমে পদ্মা থেকে ডিপ মেশিনের মাধ্যমে নারোদ নদীতে পানি দেয়ার দাবী করেন তিনি। আর নদীর দু’পাড়ে রোপনকৃত বনায়ন কেটে সাবাড় হয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে এমন অভিযোগ এখনো পাইনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম হিরা বাচ্চু বলেন, সরকার কৃষকদের উন্নয়নের স্বার্থে কৃষি জমিতে সকল মৌসুমে পানি সেচের জন্য নদীটি খনন করে। এতে এলাকায় নিয়মিত নদীর পানি দিয়ে জমিতে সেচ দেওয়ার সুবিধা পায় মানুষ। নদী আবার ভরাট ও বনায়ন কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। এমন অভিযোগ থাকলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ