আবারো রোগির স্বজনদের পিটিয়ে পুলিশে দিলেন ইন্টার্নরা

আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০১৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আবারো রোগির স্বজনদের পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে রোববার মৃত রোগির দুই স্বজনকে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছিলেন ইন্টার্নরা। চিকিৎসকের অবহেলায় ওই রোগির মৃত্যু হয়েছে, এমন অভিযোগ তুললে রোগির দুই ছেলেকে পিটিয়েছিলেন তারা। এতে একজনের মাথা ফেটে যায়। এরপর দুই সহোদরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তবে পরে অবশ্য পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।
গতকালের ঘটনাটিও ঠিক একই রকম। রক্তশূণ্যতার অসুখ নিয়ে সোমবার হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন নাটোর সদর উপজেলার তানপুর গ্রামের জয়নাল হোসেন (৭০)। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে দেখতে গিয়েছিলেন ছেলের বউয়ের চাচাতো ভাই সাদ্দাম হোসেন (২৪) ও তার বন্ধু নাহিদ হাসান (২৪)।
এ সময় তারা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুললে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের বেধড়ক পিটিয়ে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ গেলে তাদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
সাদ্দাম নাটোর সদর উপজেলার একডালা বাবুর পুকুরপাড় এলাকার মৃত আবুল কালাম আজাদের ছেলে। নাটোরের নবাব সিরাজউদ্দৌলা ডিগ্রি কলেজের বিএসএস তৃতীয়বর্ষের ছাত্র তিনি। আর তার বন্ধু নাহিদ রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের রওশন ইয়াজদানির ছেলে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, দুপুরে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছিলেন চিকিৎসক ফরিদ আহমেদ ও ইন্টার্ন চিকিৎসক কেএম সালাহউদ্দিন অভি। নাহিদ ও সাদ্দাম চিকিৎসক ফরিদ আহমেদের কাছে তাদের রোগির চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ জানাতে গেলে তিনি তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক অভি তাদের সঙ্গে মারমুখি আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে অন্য ওয়ার্ড থেকে আরও ১০ থেকে ১২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক গিয়ে তাদের ধরে চিকিৎসকের কক্ষে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আটকে রাখেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেন ইন্টার্নরা।
তবে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. তৌফিকুল ইসলাম মো. বেলাল বলেছেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশই তাদের দুজনকে ‘উদ্ধার’ করে নিয়ে গেছে। ইন্টার্নরা তাদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন নি।
জানতে চাইলে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমান উল্লাহ বলেন, হাসপাতাল কর্তৃৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মামলা না দেয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।