আবারো সাম্প্রদায়িক উস্কানি হোতাদের শাস্তি নিশ্চিত হোক

আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২১, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

কুমিল্লার পূজামন্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার কথিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আবারো উত্তেজনা ছড়িয়েছে। উন্মাদ-উন্মত্ত কিছু মানুষ উস্কানির আগে আগে দৌাড়াতে থাকে। তারা কোনো বাছবিচার না করেই উন্মত্ততা ছড়িয়ে দেয়। ভাঙচুর, অগ্রিকান্ড লুটপাট করে এমনকি মানুষ হত্যার মত ঘটনাও ঘটায়। দেশে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করতে চায়, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে।
এই ধর্মান্ধারা অতি ভয়ঙ্কর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ধর্মের নামে এরা যে কোনো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। এ দেশে এমন ঘটনা বহুল চর্চিত। কিন্তু নৃশংস এসব মানবতাবিরোধী ঘটনা এড়ানোর উপায় কী? এসব ঘটনা থেকে কি কোনো অভিজ্ঞতাই অর্জিত হয় নি, যা থেকে আমরা একটা সমাধানে পৌঁছতে পারি!
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টে যাদেরকে হামলার অগ্রভাগে দেখা যায় তারাই কি ঘটনার মূল নিয়ামক? বোধকরি এ কথা কোনো বিবেকবান মানুষই মানবেন না। এর সাথে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ার মত কেউ কারা আছে। তারা বুদ্ধি, পরামর্শ, পরিকল্পনা এবং অর্থের যোগান দিয়ে থাকবে। না হলে এটা সম্ভব নয়। তা হলে এই নেপথ্যের কুশীলব কারা? এই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজে পাওয়া যায় না, বা খুঁজে বের করার প্রয়োজন মনে হয়না। ফলে উত্তেজনাকর মুহূর্তে কিছুটা হই-হুল্লোড়, প্রতিবাদ হয়- পরক্ষণেই সব কিছু থেতিয়ে আসে। আবার সুযোগ-সুবিধে বুঝে স্বার্থান্বেষী মহল ধর্ম ব্যবহার করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালায়।
প্রকৃতঅর্থে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী রাজনীতি খেই হারিয়ে বসেছে। তারা কতটুকু দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষা করতে পারছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠা অস্বাভাবিক কিছু নাই। রাজনীতিতে নেতৃত্ব, জনসম্পৃক্ততা, ভাবষ্যতমুখিনতা এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা না থাকলে সেই রাজনৈতিক দল খেই হারাবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আর বিষয়টি এখানেই শেষ হয়ে যায় না। সঠিক ও নির্দিষ্ট পথ ধরে যখন রাজনীতিকে নেনে নিতে ব্যর্থ হয় তখন ষড়যন্ত্র-শঠতা এবং সমাজ ও সভ্যতাবিরোধী গোষ্ঠির শরণাপন্ন হতে হয়। আর রাজনীতিতে এমন শটকাট কোনো পদ্ধতিও নেই। কেননা রাজনীতির প্রধান-নীতি ও বৈশিষ্ট্য হল- দেশের মানুষের কল্যাণ করা। আর সেই কল্যাণ অবৈধ কোনো উপায়ে অর্জন করতে হলে মানবিক রাষ্ট্রের পথে হাঁটা যায় না।
বাংলাদেশের রাজনীতির চরিত্র-বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলে এটা বহুলচর্চিত ঘটনা যে, গণতান্ত্রিক মোড়কে কতিপয় রাজনৈতিক দল সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আশ্রয়-প্রশ্রয়- এমন কী অর্থ পরিকল্পনা দিয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকে। এর জন্য বাংলাদেশকে বারবার মূল্য দিতে হয়েছে। নিরীহ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে, তাদের সর্বস্ব হারাতে হয়েছে। এর অবসান হওয়া বাঞ্ছনীয়। আর মাস দুয়েকে পর বাংলাদেশ মহান বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপন করবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশে মানবিক রাষ্ট্রের, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের আকাক্সক্ষা অধরা থাকতে পারে না। আর এটা সম্ভব তখনই যতদিন সাম্প্রদায়িক শক্তির শেকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব হয় হয়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের হোতাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে এমন প্রতিশ্রুতি বার বার নয় এখন সময় এসেছে নেপথ্যের হোতাদের শাস্তি নিশ্চিত করা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ