আবার এলো রমজান

আপডেট: মে ২৮, ২০১৭, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ

রমজানুল মুবারক


আজ রোববার থেকে শুরু হল পবিত্র মাহে রমজান মাস। এই মাসে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমানগণ রোজাব্রত পালন করে থাকে। এই মাসকে রহমত, বরকত ও নেয়ামতে পরিপূর্ণ ইবাদতের মাস হিসেবে মান্য করা হয়। রমজানের পরিচয় দিতে গিয়ে মহান রাব্বুল আলামীন বলেন, রমজান এমন এক মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে। এরপরই তিনি বলছেন, সুতরাং যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে, সে যেন অবশ্যই এ মাসে রোজা পালন করে। (সূরা বাকারা-১৮৫)
রাসূলুল¬াহ সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল¬াম রমজানের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, তোমাদের সামনে এমন এক বরকতময় মহান মাস ছায়াস্বরূপ আসছে, যাতে একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ মাসকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যার প্রথম ভাগে রয়েছে রহমত, দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে মাগফিরাত এবং শেষ ভাগে রয়েছে জাহান্নামের আগুন থেকে নাজাত বা মুক্তি। রমজান সহমর্মিতার মাস। ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যের পুরস্কার জান্নাত। মাহে রমজানের বরকতে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় দোজখের দরজাগুলো। শয়তানকে বন্দি করা হয়। ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, হে কল্যাণকামী! সামনে অগ্রসর হও। হে অকল্যাণকামী! সংযত হও।
সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমালাভের মাস মাহে রমজান। অশেষ রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের এ মাস মহান আল্লাহর নৈকট্য, শান্তি এবং তাকওয়া অর্জনের অপূর্ব সুযোগ এনে দেয়। যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এ মাসটি পালন করে থাকে। সিয়াম ধনী-গরিব সকলের মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে।
সন্দেহ নেই, রমজান মাস আত্মশুদ্ধির মাস, সংযম ও সহিষ্ণুতার মাস। রমজানের এই নৈতিক শিক্ষা মানব সমাজ ধারণ করতে পারলে আমরা একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। যার মধ্য প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, মানবাধিকার, সম্ভ্রম ও মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে পারবো। কিন্তু মানুষের বিবেকহীনতা, নিষ্ঠুরতা, ধর্মের অপব্যবহারের ফলে মানব সমাজ কাক্সিক্ষত ন্যায্যতা অধিকার ও প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখানেই আমাদের কাজ করার জন্য যথেষ্ট দক্ষতা ও সক্ষমতা তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
রমজান মাস শুরু না হতেই আমরা বাজারের উচ্চমূল্য দেখি- যা সাধারণ দরিদ্র মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। সরবরাহ ব্যবস্থা যথেষ্ট থাকার পরেও কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী রমজান মাসকে তার মুনাফা লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ওই সব ব্যবসায়ীর কাছে ধর্মানুভুতির চেয়েও অতিমুনাফাই মূখ্য হয়ে দাঁড়ায়। এমন নজির পৃথিবীর আর কোনো দেশে খুঁজে পাওয়া ভার। আমরা আশা করি ব্যবসায়ীরা তাদের এই অতিমুনাফালোভী মানসিকতা পরিহার করে ধর্মের পবিত্রতা রক্ষা করবে।
রমজান মাসে প্রতিদিন বাজার মনিটরিঙের উদ্যোগ থাকতে হবে। নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা গেলে হয়ত বাজারের পণ্যমূল্যে লাগামহীন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। সেই সাথে টিসিবি পণ্য দরিদ্র জনগোষ্ঠি যাতে সহজ ও সুলভমূল্যে পেতে পারে সে ব্যাপারেও বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
রমজান মাসের পবিত্রতা ও এর ভাবমূর্তি যাতে বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারে সকলের সচেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই জরুরি। প্রকাশ্যে পানাহার ও ধুমপান রোজাদারদের প্রতি অসম্মানই বটে। এটি গর্হিত কাজ। রমজানের ভাবগাম্ভির্য রক্ষা করা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য। এমনকী তিনি যদি অন্য ধর্মেরও হন। মানুষের ধর্মানুভূতিকে সম্মান জানানোর মাধ্যমে আমরা শান্তি ও নিরাপত্তার অন্বেষণ করতে পারি।
মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের প্রতি রইল রমজানুল মুবারক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ