আবাসন সঙ্কটে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা ।। সংঘর্ষে ছয় বছর বন্ধ তিনটি ছাত্রাবাস

আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০১৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :



আবাসন সঙ্কটে রাজশাহী সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিউটিটের শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগ-ছাত্রমৈত্রীর সংঘর্ষে তিনটি ছাত্রাবাস ছয় বছর বন্ধ থাকায় এ সঙ্কট প্রকট হয়ে উঠেছে। অথচ ছাত্রাবাস তিনটি সংস্কার করে পুনরায় চালুর করার কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। এইজন্য অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া দিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,  ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ-ছাত্রমৈত্রীর এ সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রমৈত্রীর নেতা রেজওয়ানুল চৌধুরী সানী নিহত হয়। তখন থেকে ছাত্রাবাস তিনটি বন্ধ। এর মধ্যে ১২ জন্য অধ্যক্ষ বদলি হলেও কেউ ছাত্রাবাসগুলো খুলে দিতে কার্যকরি পদক্ষেপ নেন নি।
সূত্র জানায়, কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্যই ইনস্টিটিউটের ছাত্রাবাস তিনটি বন্ধ রয়েছে। ছাত্রাবাস তিনটি খোলার ব্যপারে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যেগ নিচ্ছেন না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ছাত্রলীগ ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরা ছাত্রাবাস তিনটি খুলে দেবার কথা বললেও ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করছেন না। তবে ইন্সটিউটের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বহু বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় ছাত্রাবাসের ভেতরের সব আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। ছাত্রবাস তিনটি সংস্কার করতে হবে। এইজন্য অনেক টাকা দরকার। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় ছাত্রাবাস সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। এইজন্য ছাত্রাবাস তিনটি খুলে দেয়া হচ্ছে না।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ৮টি বিভাগে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছেন ৩৯১১ জন। এর বিপরীতে তিনটি ছাত্রাবাসে আসন রয়েছে ২৯৮ জন। এর মধ্যে ছেলেদের জন্য বরাদ্দ শহিদ মোনায়েম ছাত্রাবাস ও শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ (র.) ছাত্রাবাস মিলে আসন রয়েছে ২১০ জন এবং মেয়েদের জন্য বরাদ্দ আক্তারুন্নেছা ছাত্রীনিবাসে আসন রয়েছে ৮৮ জনের। সানি হত্যার পর থেকে এই তিনটি ছাত্রাবাস বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর থেকে পুরো শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাহিরের মেসে থাকতে হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় ছাত্রাবাসের ভেতরের চেয়ার, টেবিল, খাট, আলমারি, দরজা-জানলাসহ যাবতীয় আসববাপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। মেঝে ও দেয়ালের প্লাস্টার উঠে গেছে। মেঝেয় ধুলার আস্তরণ পড়েছে। বারান্দায় গাছপালার পাতা ও ময়লা আর্বজনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। বাহির থেকে একটা কক্ষের ভেতরে দেখা যায়, পাটাতন উঠে যাওয়ায় একজায়গায় গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে চেয়ার টেবিল। প্রতিটি কাঁচের ভাঙা জানালা সাক্ষি বহন করছে সানি হত্যার সময়কে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনিক একজন কর্মকর্তা জানান, বহুদিন ধরে ছাত্রাবাসগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় ওই এলাকাটা বিভিন্ন মাদকসেবিদের আস্তানা হিসেবে গড়ে উঠেছে। ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থী না থাকায় ছাত্রাবাসের বহু জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে। পরে বাধ্য হয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাইট-ফ্যান খুলে এনে স্টোর রুমে জমা করা হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান রিগেন জানান, আমরা ছাত্রাবাসগুলো খুলে দেবার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। এর আগে আমরা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেছি। অধ্যক্ষ স্যার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, দ্রুত ছাত্রাবাসগুলো খুলে দেয়া হবে। ছাত্রাবাস খুলে দিলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেসের অতিরিক্ত ভাড়া খরচ করা থেকে বেঁচে যাবে। এছাড়া ক্যাম্পাসেরও একটা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ফিরে আসবে।
পলিটেকনিক ইন্সটিউটিটে বর্তমানে ছাত্রমৈত্রীর কমিটি না থাকলেও ছাত্রমৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এবং বর্তমানে ওয়ার্কার্স পার্টির নগর কমিটির সদস্য মতিউর রহমান মতি বলেন, আমরা চায় ছাত্রাবাসগুলো খুলে দেয়া হোক। কারণ এতে অল্প হলেও ছাত্রছাত্রীদের আবাসন সংকট দূর হবে। কিন্তু শিক্ষকদের কাছে আমাদের দাবি, কোনো ছাত্র যেন ‘পলিটিক্যালি’ (রাজনৈতিকভাবে) আসন না পায়। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন তাদের যোগ্যতা অনুসারে আসন পায়।
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলী আকবর খান জানান, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা ছাত্রাবাসের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। সংস্কার না করে ছাত্রাবাসে থাকার কোনো উপায় নেই। এজন্য পর্যাপ্ত অর্থ দরকার। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরকে সংস্কার করার কয়েকবার লিখিত আবেদনও করা হয়েছে। বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার করা হচ্ছে না। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর থেকে ছাত্রাবাস তিনটি সংস্কার করে দেয়া হলে আমরা ছাত্রাবাস তিনটি খুলে দেব।