আবাসিক শিক্ষার্থীকে মেঝেতে থাকতে বলে অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে সিটে তুলে দিলো ছাত্রলীগ

আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২৪, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ


রাবি প্রতিবেদক :


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীর সিট থেকে তার জিনিসপত্র ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এসময় তাকে মেঝেতে থাকতে বলে তার সিটে অনাবাসিক এক শিক্ষার্থীকে তুলে দেয়া হয়। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হলের ১৩২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নিজের সিট ফিরে পেতে এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতেই হল প্র্যাধ্যক্ষকে মুঠোফোনে কল দিয়ে জানালে তা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি। কিন্তু এখনো কোনো সমাধান হয়নি। অনাবাসিক শিক্ষার্থী ওই রুমে না থাকলেও তার জিনিসপত্র এখনো ওই রুমেই রয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন- মতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ডালিম মির্জা ও তার কয়েকজন কর্মী। ডালিম মির্জা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিবের অনুসারী। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম বিপুল সরকার ইমরান। তিনি হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এবং মতিহার হলের আবাসিক ছাত্র।

ভুক্তভোগী ইমরানের অভিযোগ, গত ১৪ মার্চ হল প্রাধ্যক্ষ তাকে হলের ১৩২ নম্বর কক্ষ বরাদ্দ দিয়ে আবাসিকতার ব্যবস্থা করে দেন। সেদিন থেকেই বরাদ্দ পাওয়া কক্ষে থাকতে শুরু করেন তিনি। শুক্রবার রাত ৯:৩০ টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা ডালিম মির্জার কর্মী পরিচয়ে দুজন ছাত্রলীগ কর্মী তার কক্ষে আসেন। সেসময় তারা তার কাছে জানতে চান, তিনি কতদিন ধরে ওই কক্ষে আছেন। জানার পর তারা চলে যান।

এরপর রাত ১১:৩০ টার দিকে পুনরায় পাঁচজন ছাত্রলীগ কর্মী প্রবেশ করেন তাঁর কক্ষে। ডালিম ভাইয়ের নির্দেশে এসেছেন জানিয়ে তারা বলেন, ‘এই সিটটা ছাত্রলীগের সিট, এই সিটে তুমি থাকতে পারবা না। প্রভোস্ট স্যার কার্ড করে দিয়েছে, ওনার সঙ্গে কথা বলো তুমি। যতদিন প্রভোস্ট স্যারের মাধ্যমে কথা বলে না আসবা, ততদিন তুমি মেঝেতে থাকবা, আমাদের ছেলে সিটে থাকবে’। সেসময় তারা বিপুলের বিছানাপত্র নিচে ফেলে দেয়।

এরপর তারা সেখানে মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আবির নামে অনাবাসিক এক ছাত্রকে তুলে দেন। তবে, অনাবাসিক ছেলেটা রাতে ওই রুমে ছিলো না। কিন্তু জিনিসপত্রগুলোও নিয়ে যায়নি। রোববার জিনিসপত্রগুলো নিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা ডালিম মির্জা।

ইমরান বলেন, ‘আমার বাবা কৃষক। আর্থিক দুরাবস্থার কারনে প্রাধ্যক্ষ স্যার আমাকে মার্চ মাসের ১৪ তারিখে এই রুমে সিট দিয়ে আবাসিকতার ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু ডালিম ভাইয়ের কয়েকজন কর্মী এসে গতরাতে আমাকে বিছানাপত্র নামিয়ে আরেকজনকে তুলে দিয়েছে। আমি প্রাধ্যক্ষ স্যারকে শুক্রবার রাতেই বিষয়টি জানিয়েছি। আজ (শনিবার) সকালে আরেকবার স্যারকে কল দিলে তিনি বিষয়টি সমাধান করবেন বলে জানান। কিন্তু এখনো সমাধান হয়নি। আমি কী করবো বুঝে উঠতে পারছি না।’

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ডালিম মির্জা বলেন, ইমরান যে বড় ভাইয়ের সিটে উঠেছে। সিটে ওঠার বিষয়ে ওই ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য আবির ওই রুমে গিয়েছিল। তারপর যখন জানতে পেরেছে, সিটটা হল প্রশাসন বরাদ্দ দিয়ে দিয়েছে, তখন সে চলে আসে। সে (আবির) রাতে ওই রুমে ছিলো না। এখানে একটু ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিলো। বরাদ্দ পাওয়া ছেলেটাই আছে ওখানে।

কিন্তু আবির তার জিনিসপত্র ওই রুম থেকে নিয়ে যাচ্ছে না কেনো জানতে চাইলে এই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, আমি ওকে বলেছিলাম জিনিসপত্রগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য। কোনো কারণে নিয়ে যেতে পারেনি হয়তো বা। ওতো ক্যাম্পাসে থাকে না। রাতে না নিলেও, সকালে (রবিবার) নিয়ে যাবে।

এবিষয়ে হলের প্রাধ্যাক্ষ অধ্যাপক এম. নজরুল ইসলাম বলেন, ডালিমের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সে বললো যে, আবাসিক ছেলেটা ওই রুমেই আছে। পাশাপাশি ওখানে আরেকটা ছেলেকে ওরা রেখেছে। কিছুদিন পরে ওদের ওই ছেলেটাকে সরিয়ে নিবে। বিছানাপত্র ফেলে দেয়ার কথা বলেনি। আবাসিক ছেলেটাও বিছানাপত্র ফেলে দেয়ার কথা বলেনি। আরেকটা ছেলেকে তুলে দিয়েছে, এটা বলেছে। বেড শেয়ারিং করে থাকার মত আর কী।

কোনো ছাত্র নেতা আবাসিক একটা শিক্ষার্থীকে তার সিট অনাবাসিক একজনের সাথে শেয়ারিং করে থাকতে বলতে পারে কিনা জানতে চাইলে এই প্রাধ্যক্ষ বলেন, রুমটা সদ্য খালি হয়েছিল। ওরাও ওখানে দখল নিয়েছে, আমিও ওখানে একজনকে বরাদ্দ দিয়েছি। সমস্যাটা এখানে। অনেকদিন আগে থেকে যারা আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে রয়েছে, তাদের সিটেতো সমস্যা হচ্ছে না। নতুন বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সিট নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। তবে, হল প্রশাসনের বরাদ্দ দেয়া সিটে কেউ অন্য কাউকে তুলতে পারেনা, এটা ঠিক। আজকে ছুটির দিন ছিলো। আমি আগামীকাল (রবিবার) দেখবো বিষয়টা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ