আব্বাসকে বহিষ্কারের সুপারিশ কাউন্সিলরদের অনাস্থা প্রকাশ

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১, ১০:১৩ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নিয়ে কটূক্তি করে বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কাটাখালি পৌর মেয়র আব্বাস আলীকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ। সভা শেষে এই তথ্য নিশ্চিত করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুুদ দারা বলেন, বাঙালি জাতির চেতনা ও স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৭ কোটি জনগণের আবেগের জায়গা। বঙ্গবন্ধু শুধু আমাদের জাতির পিতাই নন; তিনি সারাবিশে^র নেতা। তিনি আন্তজার্তিকভাবে স্বীকৃত অবিসংবাদিত নেতা। সেই নেতার ম্যুরাল নিয়ে কাটাখালির পৌর মেয়র যে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাকে সাংগঠনিকভাবে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজশাহীর রাজপথ উত্তাল। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আব্বাসকে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার এবং পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে সহসভাপতি আমানুল হাসান দুদু, অধ্যক্ষ এস.এম. একরামুল হক, মোঃ আমজাদ হোসেন নবাব, মোঃ সাইফুল ইসলাম দুলাল, এ্যাড. শরীফুল ইসলাম শরীফ এবং মোঃ জাকিরুল ইসলাম সান্টু। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মন্ডলীঃ-এ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু, মোঃ আয়েন উদ্দিন এমপি এবং অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল। সাংগঠনিক সম্পাদক এ.কে.এম. আসাদুজ্জামান, এ্যাড.মোঃ আব্দুস সামাদ এবং মোঃ আলফোর রহমান। কোষাধ্যক্ষ মোঃ আজিজুল আলম। দপ্তর সম্পাদক প্রদ্যুৎ কুমার সরকার, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. এজাজুল হক মানু, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ডাঃ চিন্ময় কান্তি দাস, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রেজওয়ানুল হক পিনু মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ মোজাম্মেল হক, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শহিদুল করিম শিবলী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. পূর্ণিমা ভট্টাচার্য, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মামুনুর রশিদ সরকার মাসুদ, শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম মুক্তি, উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ আব্দুল মান্নান এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাসুদ রানা। সদস্যবৃন্দ বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপিকা জিন্নাতুন্নেসা তালুকদার, নকিবুল ইসলাম নবাব, অধ্যক্ষ(অবঃ)আ.ন.ম. মনিরুল ইসলাম তাজুল, সাইফুল ইসলাম বাদশা, মোঃ আক্কাস আলী, অধ্যক্ষ গোলাম ফারুক, মোঃ ফারুক হোসেন ডাবলু, জি.এম. হীরা বাচ্চু, মোঃ শরীফুল ইসলাম, রোকনুজ্জামান রিন্টু, আব্দুর রাজ্জাক, মোঃ আবুল কালাম আজাদ, রবিউল ইসলাম রবি, রোকসানা মেহবুব চপলা, মোসাঃ মর্জিনা পারভীন, এস.এম. তৌহিদ আল হোসেন তুহিন, মোছাঃ নিলীমা বেগম, ডাঃ আনিকা ফারিয়া জামান অর্ণা, এ্যাড. নাসরিন আক্তার মিতা এবং বদরুল ইসলাম তাপস।

সভায় আলোচ্য বিষয়ের আলোচনা এবং পর্যালোচনা হচ্ছে, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কাটাখালী পৌরসভার মেয়র ও কাটাখালি পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো. আব্বাস আলী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান হেনা-এঁর সন্তান রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নবনির্বাচিত প্রেসিডিয়াম সদস্য এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটন’কে উদ্দেশ্য করে সংগঠন পরিপন্থী গর্হিতকর মন্তব্য করায় এবং তা টেলিভিশন সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্হিতকর অডিও মন্তব্য বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক সবসম্মতিক্রমে মো. আব্বাস আলীর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ সহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দানের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সহ আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিস্কারের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব এবং ফৌজদারি মামলা করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গ্রহণ সহ প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে প্রেরণের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। এতদসঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-রাজশাহী জেলা শাখা থেকে মো. আব্বাস আলীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানপূর্বক দলের প্রাথমিক সদস্য পদ হতে কেনো তাকে বহিস্কার করা হবেনা, তা পত্র প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। (রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত পত্রের তারিখঃ-২৬/১১/২০২১ ইং)।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের জরুরী সভায় এবিষয়ে ক্ষোভ এবং নিন্দা জ্ঞাপন সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক সাংগঠনিক ব্যবস্থার জোর দাবি জানিয়ে যথাক্রমে বক্তৃতা রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক মাহবুব আলম মুক্তি, সদস্য রোকনুজ্জামান রিন্টু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রেজওয়ানুল হক পিনু মোল্লা, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ এস.এম একরামুল হক, সদস্য ফারুক হোসেন ডাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আলফোর রহমান, সহসভাপতি মো. জাকিরুল ইসলাম সান্টু, সহ সভাপতি এ্যাড. শরিফুল ইসলাম শরীফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আয়েন উদ্দিন এমপি, সদস্য ডা. আনিকা ফারিয়া জামান অর্ণা, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ কুমার প্রতীক দাস রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এ.কে.এম আসাদুজ্জামান, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. এজাজুল হক মানু, সদস্য মোঃ আক্কাস আলী, সদস্য সাইফুল ইসলাম বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাবলু এবং সদস্য আব্দুর রাজ্জাক।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-পবা উপজেলা শাখা মোঃ আব্বাস আলীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় কাটাখালি পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান পূর্বক দলের প্রাথমিক সদস্য পদ হতে কেনো তাকে বহিস্কার করা হবেনা তা পত্র প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে। (পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত পত্রের তারিখঃ-২৫/১১/২০২১ ইং)।

এদিকে, মেয়র আব্বাস আলীকে অপসারণে অনাস্থা এনেছেন কাউন্সিলররা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌরসভা ভবনের সভাকক্ষে কাউন্সিলরদের জরুরি সভায় এ অনাস্থা প্রকাশ করেন তারা। পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ জানান, তার সভাপতিত্বে কাউন্সিলরদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মেয়র আব্বাসকে অপসারণে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহিত হয়। এরপর মেয়র আব্বাসকে অপসারণের জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর অনাস্থা প্রস্তাবের আবেদনে ১২ জন কাউন্সিলর স্বাক্ষর করেন। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের বাস ভবনে গিয়ে তাঁর কাছে আবেদন জমা দেয়া হয়। এ সময় ১০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থ থাকার কারণে দুইজন আসেন নি বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার থেকে রাজশাহীতে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। যেখানে মেয়র আব্বাস বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এ নিয়ে ক্ষোভে উত্তাল রাজশাহী। বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংগঠনগুলো। ইতোমধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আব্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আর উপজেলা আওয়ামী লীগ আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।