আব্বাসের বিরুদ্ধে বিক্ষুদ্ধ প্রতিবাদে উত্তাল রাজশাহী আইসিটি আইনে মামলা, অবাঞ্চিত ঘোষণা

আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২১, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নিয়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত কাটাখালি পৌর মেয়র আব্বাস আলীকে রাজশাহীতে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নগরীর রাজপাড়া, বোয়ালিয়া ও চন্দ্রিমা থানায় পৃথক পৃথকভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়।

রাজশাহী নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৩ নং কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন বোয়ালিয়া থানায়, নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তহিদুল হক সুমন বাদী হয়ে চন্দ্রিমা থানায় ও ১৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, একই অভিযোগে বোয়ালিয়া, রাজপাড়া ও চন্দ্রিমা থানায়ও মামলার এজাহার দেওয়া হয়েছিল। তবে বোয়ালিয়া থানার মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। আর এই ঘটনায় তিনটি মামলা হয় না। রেকর্ডকৃত মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, পৌর মেয়র আব্বাসকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, দল থেকে বহিষ্কার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে নগরীতে বিক্ষোভ সামাবেশসহ পুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। স্বাধীনতার চেতনায় আঘাতের ধৃষ্টতা দেখানোর অভিযোগ করে রাজশাহীর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থাসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে নগরীতে বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে।

পৃথক পৃথক কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগের নৌকাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জামাত-শিবিরের এজান্ডা বাস্তবায়ণ করতে এসেছে এই কুলাঙ্গার আব্বাস। স্বাধীনতার চেনতায় আঘাত করে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে কটুক্তি করার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। স্বাধীন ও স্বর্বভৌম এই বাংলাদেশে এসব কুলাঙ্গারদের উদ্যেশ্য কখনোই বাস্তবায়ণ হবে না। ১৭ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কারিগর প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করবে এদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষের মানুষ রাজপথ দখল নিয়ে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে বিচারের ব্যবস্থা করবে।

পৌর মেয়র আব্বাসের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তারা আরও বলেন, আপনি বঙ্গবন্ধুর ম্যুারাল নিয়ে কটুক্তি করে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার সত্যতা পাওয়া গেছে। স্বাধীনতা চেতনা নিয়ে এমন ধৃষ্টতা দেখানোর দুঃসাহসের জন্য আপনাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে। এই ধৃষ্টতা দেখিয়ে ছাড় পাবেন না।

এ সময় বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গলি জাতির চেতনা। তার হাত ধরে এই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির কর্মী দাবি করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত করে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে কটুক্তি করার দুঃসাহস দেখিয়েছে আব্বাস আলী। আব্বাসের মতো ভুঁইফোড় অনুপ্রবেশকারী আওয়ামী লীগের সুনাম নষ্ট করছে। আব্বাসের মতো কুলাঙ্কার নেতার আওয়ামী লীগের দরকার নেই। এই কুলাঙ্কারকে অতি শিঘ্রই দল থেকে বহিষ্কার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তাকে যেখানে দেখবেন সেখানেই গনধোলাই দেয়ার আহ্বান জানান তারা।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাজশাহী জেলা ও মহানগর ইউনিট কমান্ড, রাজশাহী সাবেক ছাত্রলীগ ফোরাম, কাটাখালী পৌরসভা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে পৃথক পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন বক্তারা।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) বেলা ১০ টায় নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রমাণিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, মহানগর বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কমান্ডার ডা. আব্দুল মান্নান, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমন, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খানসহ রাজশাহীর বীর মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

মহানগর বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কমান্ডার ডা. আব্দুল মান্নান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে থাকতে স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্ত বাস্তবায়ন হবে না। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে ধৃষ্টতা দেখানো কাটাখালির পৌর মেয়র আব্বাস আলীকে অবিলম্বে দল থেকে বহিষ্কার করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এদেশে পাকিস্তানি ভাবধারার এজেন্ডা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের ভুঁইফোড় কিছু নেতা গোপনে কাজ করছে। এরা কোথায় সাহস পাচ্ছে এমন ধৃষ্টতা দেখানোর। এদের পেছনে নিশ্চই ওই জামাত-শিবিরের ইন্ধন রয়েছে। তাদের এই হীন উদ্যেশ্য কখনোই বাস্তবায়ন হবে দেয়া হবে না। বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনার কাছে আহ্বান নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেয়ার আগে তাদের অতীত পর্যালোচনা করে প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের বাছাই করুন। যেন আব্বাসের মতো কোন কুলাঙ্গাররা দলে অনুপ্রবেশ না করে। এই কুলাঙ্গারকে দল থেকে বহিষ্কার, মেয়র পদ থেকে অব্যাহতি ও শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধারা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে রুহুল আমিন প্রামাণিক বলেন, অত্যান্ত দুঃখ নিয়ে আজ মুক্তিযোদ্ধাদের রাজপথে নামতে হয়েছে। খোলস পাল্টিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীরা সক্রিয় রয়েছে। সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। যেখানে আব্বাসের মতো আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারীরা ষড়যন্ত্রের অংশ কি না? তা খতিয়ে দেখতে হবে। এসময় তিনি এ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আব্বাসের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

অপরদিকে, একই দাবিতে নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে বিকেল সাড়ে ৪ টায় আব্বাসের প্রত্তলিকা দাহসহ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে রাজশাহী সাবেক ছাত্রলীগ ফোরাম। শাস্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, সাবেক ছাত্রলীগ ফোরামের সাবেক ছাত্র নেতা মো. শফিকুজ্জামান, মীর তৌহিদুর রহমান টিটু, মো. নফিকুল ইসলাম, মো. হাবিবুর রহমান বাবু, মো. মেরাজুল আলম, মো. রফিকুল হাসান, মো. আব্দুল মোমিন, মো. মাসুদ রানা শাহীন, মো. পংকজ দে, মো. শফিকুজ্জামান শফিক প্রমুখ।

এছাড়া, আব্বাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করেছে কাটাখালি পৌরসভা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এদিন সকাল ১১টায় কাটাখালি বাজারে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিক্ষোভ সামবেশ করেন তারা। মিছিল শেষে কাটাখালি পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ জহুরুল আলম রিপনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদ আলী, কাটাখালির সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব মোল্লাহ, কাটাখালি পৌরসভা যুবলীগের আহবায়ক জনি ইসলাম ও পবা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম রাজু প্রমুখ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ