আমতে শুরু করেছে গাছের আম ক্রেতার জন্য শেষ আমটিও যেন নিরাপদ হয়

আপডেট: মে ১৪, ২০২২, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

আমের শহর রাজশাহী। রাজধানীসহ সারা দেশে রাজশাহীর আমের খ্যাতির কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাদে-গন্ধে- মনমাতানো আমের চাহিদা দেশের সর্বত্রই আছে। কিন্তু সেই আম ক্রেতার কাছে নিরাপদ হতে হবে। রাজশাহী জেলা প্রশাসন আমের নিরাপদ বাজার সুরক্ষায় উদ্যোগ-ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। দেশের যে সব জেলায় আমের উল্লেখযোগ্য উৎপাদন হয় সেসব জেলায় একই ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ১২ মে রাজশাহী জেলা প্রশাসন রাজশাহী জেলার আম উৎপাদনকারী, বাজারজাতকারী ও সংশ্লিষ্ট অংশিজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় রাজশাহীর ১২ জাতের আম পাড়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ কওে দিয়েছে। সে অনুযায়ী ১৩ মে থেকে গুটি আম নামতে পারবে চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ২০ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে লক্ষণভোগ বা লখনা এবং রাণীপছন্দ, ২৮ মে থেকে হিমসাগর বা ক্ষিরসাপাত, ৬ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে আম্র পালি ও ফজলি, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা ও বারি আম-৪, ১৫ জুলাই থেকে গৌরমতি এবং ২০ আগস্ট থেকে ইলামতি আম পাড়তে পারবে চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে বিগত কয়েক বছর ধরে ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের আস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই উদ্যোগের ফলে আম উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারীদের মধ্যে অনেকটাই শৃঙ্খলা ফিরেছে। কয়েক বছর আগে এক ধরনের প্রচারনা ছিল যে, অপরিপক্ক আম অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে বাজারজাত করতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হত। আমের পচনরোধে ফরমালিন ব্যবহার করা হত। এর সত্যতা যতটুকু ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি প্রচারনা ছিল। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, ভয়-ভীতি কাজ করতো। সরকারের উদ্যোগ ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের কারণে সেই প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। একই সাথে এই উদ্যোগের সাথে আম সংশ্লিষ্টরাও নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন। তারপরও অসাধুতা যে একেবারেই নিঃশেষ হয়েছে তেমনটি বলার সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে প্রশাসনের পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আছে।
ইতোমধ্যেই গুটি আম গাছ থেকে পাড়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাজারেও আম উঠতে শুরু করেছে। অর্থাৎ রাজশাহীতে আম উৎসবের সূচনা হয়ে গেছে। আম খাওয়ার এই উৎসব সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রত্যাশা থাকবে শেষ পর্যন্ত বাজারে বিক্রির জন্য নিরাপদ আমটিই ক্রেতাদের জন্য থাকবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ