‘আমরা কাফেরদের হত্যা করি’, কুৎসিত চেহারা প্রকাশ করে হুঙ্কার তালিবানের

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও তালিবানের শাসনে বিবর্তনের পথে পিছু হাঁটছে আফগানিস্তান। জেহাদিদের জমানায় সেদেশে নারীশিক্ষা, মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলির যে কোন মূল্য নেই তা স্পষ্ট। এবার নিজেদের কুৎসিত চেহারা ফের প্রকাশ্যে এনে মহিলাদের অধিকারের দাবিতে মিছিল করা এক মানবাধিকার রক্ষা কর্মীকে ‘কাফের’ আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকি দেয় জঙ্গিরা।

বুধবার কাবুলে নারীদের অধিকারের দাবিতে মিছিলে শামিল হয়েছিলেন মানবাধিকার কর্মী হাবিবুল্লা ফরজাদ। তবে তিনি একা নন ওই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন অনেকেই। আফগানিস্তানে তাঁদের সমান অধিকার ফেরানোর দাবিতে আয়োজিত সেই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নারীদের সমর্থন জানানোয় ‘ইসলাম বিরোধিতার’ অপবাদে তাঁর মতো আরও অনেকের উপরেই এমন অত্যাচার চালায় তালিবান। সেই তালিকায় রয়েছেন একাধিক সাংবাদিকও। মিছিলের উপর হামলা চালানো তালিব জঙ্গিদের কথায়, “আমরা কাফেরদের হত্যা করি।

নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে হাবিবুল্লা ফরজাদ বলেন, “আমাকে পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলে তালিবরা। তারপর একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে প্রচ- মারধর করা হয়। একসময় মারের চোটে আমি জ্ঞান হারাই। তারপর আমাকে অন্য একটি কামরায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বেশ কয়েকজনকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে সাংবাদিকরাও ছিলেন।”

উল্লেখ্য, আফগানিস্তান তালিবানের দখলে চলে যাওয়ার পর থেকে মানবাধিকার রক্ষা কর্মীদের উপর এ রকম হামলা প্রায় রোজকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতা দখলের পরই তালিবানের সুপ্রিমো হায়বাতোল্লা আখুন্দজাদা সাফ জানিয়েছিল যে, গণতন্ত্র নয়, আফগানিস্তানে জীবন চলবে শরিয়ত আইন মেনে। ফলে ‘ইসলামিক আমিরশাহী’ বা ‘ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান’-এ সংখ্যালঘু ও নারীদের পরিণাম কী হতে চলেছে তা স্পষ্ট। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী ও পুরুষদের বসার জায়গা আলাদা করেছে তালিবান। নারীদের খেলাধুলোয় অংশ নিতে বরং করা হয়েছে। সবমিলিয়ে আবারও দেশটিতে অন্ধকার যুগ ফিরে এসেছে।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন