‘আমারও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার ইচ্ছে হয়’

আপডেট: জুলাই ২১, ২০১৭, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


সকাল কী বিকেল, রবীন্দ্র কলাভবনের সামনে পশ্চিম পাশের দোকানে যেতেই ছুটে এসে বলবে, ‘ভাই বসেন, নাস্তা করেন’। তার নাম সুমন। বয়স ১২ কিংবা ১৩ বছর। দোকানে পানি ও খাবার পরিবেশন করা তার কাজ। যে বয়সে তার হাতে থাকার কথা বই-খাতা, সে বয়সে দরিদ্রতার কারণে তাকে হাতে নিতে হয়েছে পানির গ্লাস ও খাবার প্লেট। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাতো দূরের কথা, অক্ষর জ্ঞান- এমনকী নিজের নামটিও লিখতে জানে না সুমন।
নগরের নজিরের মোড়ের বাসিন্দা মৃত শাহাদৎ হোসেন ও সাবিনা বেগমের দুই ছেলে মেয়ের মধ্যে সুমন বড়। তার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে। বোনের বিয়ে হয়েছে দেড় বছর আগে। বেশ কিছুদিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রবীন্দ্র কলাভবনের সামনে মকসেদ আলীর খাবারের দোকানে কাজ করে সে।
উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে সুমন জানায়, পাঁচ বছর বয়সে বাবা মারা যায়। দরিদ্র পরিবারে পিতার মৃত্যুতে তীব্র দুঃখ-কষ্ট শুরু হয়, সবচেয়ে বড় কষ্ট খাবারের। অসহায় অবস্থায় বাধ্য হয়ে বিভিন্ন দোকানে কাজ শুরু করে সে। সুমন দোকানে কাজ করে পারিশ্রমিক হিসেবে প্রতিদিন পায় মাত্র ৫০ টাকা, কোনো কোনোদিন ৬০ টাকা। সেইসঙ্গে জোটে দুই বেলা খাবার।
কথা বলার এক পর্যায়ে সুমন বলে, আমারও ইচ্ছে হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হতে, এখানে লেখাপড়া করতে। স্বপ্ন দেখি এখানে আমার অনেক বন্ধু থাকবে, তাদের সঙ্গে বসে আড্ডা দেবো। একদিন অনেক বড় হব, একটা ভালো চাকরি করবো। তখন মায়ের আর কোন দুঃখ থাকবে না।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সুমন বলে, জানি আমার স্বপ্ন কোনোদিন পূরণ হবে না। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া আমাদের মত গরিব মানুষের জন্য না। লেখাপড়া করতে হলে বাবা-মায়ের অনেক টাকা থাকা লাগে। আমার বাবা-মায়ের এতো টাকা নেই, তিনবেলা খাবার ও পোশাকের জন্য অন্যের কাজ করি। কথা বলতে বলতেই ‘যাই, অনেক কাজ পড়ে আছে’ বলে চলে গেল সুমন। তার নিয়তির পথে। যেখানে স্বপ্ন নেই, সুখও অধরা। আছে শুধু ক্ষুধার পেছনে ছুটে চলা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ