‘আমার দূরে সরে যাওয়াই ভালো’

আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০১৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
সত্তর আর আশির দশকে দাপটের সঙ্গে পর্দা শাসন করেছেন বহুদিন; অভিনয়ের জাদু দিয়ে কেবল ঢাকাতেই নয়, নাম কুড়িয়েছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ঢাকাই ছবির সোনালি দিনের অভিনেত্রী ববিতা হঠাৎ করেই যেন নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন রূপালি জগৎ থেকে।
গণমাধ্যম থেকেও নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা একসময়ের এই কিংবদন্তিকে পাওয়া গেল রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একটি ফ্যাশন শোয়ের অতিথি হিসেবে। সেখানেই গ্লিটজ-এর সঙ্গে অন্তরঙ্গ আলাপে ব্যক্ত করলেন এখনকার সিনেমা নিয়ে তার হতাশার কথা।
ববিতা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই তো সিনেমা করেছি। আসলে আমরা যখন কাজ করেছি তখনকার পরিচালক, গল্পকার, প্রযোজক- সবাই ছিলেন বিখ্যাত লোক। কিন্তু এখন, কেমন যেন হয়ে গেছে সিনেমার জগৎ! এখানে এখন যারা কাজ করছেন, তাতে আমার মনে হচ্ছে আমার দূরে সরে যাওয়াটাই বোধ হয় ভালো।”
সত্তর কিংবা আশির দশকের তুলনায় গত কয়েক বছরে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোয়  মৌলিক ও দেশি গল্পের অভাব প্রকট বলেই মনে করছেন তিনি।
ববিতার ভাষ্যে, “কয়েক জন নির্মাতার সিনেমার ছাড়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মনে হচ্ছে অন্য দেশের নকল করে, অনুবাদ করে সিনেমা বানানো হচ্ছে। আমাদের দেশের কোনো কিছুই তার মধ্যে পাচ্ছি না। কেমন যেন লাগে। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সারেং বউ’, ‘দহন’- কত সুন্দর ছিল সেইসব সিনেমা! কিন্তু সেই ধরনের সিনেমা তো এখন হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “এখন যে কি হচ্ছে, আমি নিজেও জানি না। টেলিভিশনে এখনকার শিল্পীদের কাজ দেখছি। আমার কান্না পায় কেনো যেন। তবে এটা কারও একার ভুলে হয়নি। সব কিছু মিলেই এমনটা হয়েছে।” তাহলে কি গোটা সিনেমা শিল্পের ওপর অভিমান করেই অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়া?

lead
মিষ্টি হেসে ববিতা বললেন, “আমি তেমনটা বলবো না। আমার বেশ কিছু সিনেমায় চুক্তি করা ছিল। কিন্তু আমি হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলাম আমার আর সিনেমা করা ঠিক হবে না। কারণ, এর আগে আমি বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছি; তারপরে সেগুলো যখন আমি নিজে দেখেছি, ওগুলো কি সিনেমা, নাকি নাটক, নাকি টেলিফিল্ম- আমি নিজেই বুঝতে পারিনি।” এই ধরনের সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতাও ভালো ছিল না বলেই জানান ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ খ্যাত এই অভিনেত্রী।
তিনি বলেন, “অভিনয় করেও কিন্তু ভালো লাগেনি। কাজের যে জায়গাটা, সেখানে গিয়ে তো ভালো লাগতে হবে। সেই ভালো লাগাটাও কিন্তু পাইনি। সব কিছু কেমন যেন পরিবর্তন হয়ে গেছে। সবাই কীভাবে যেন কাজ করছে! সত্যি কথা বলতে, আমার কাছে এই ধরনের কাজকে সিনেমা মনে হয় না। তাই আমি ভাবলাম, আমার দূরে সরে যাওয়াই ভালো।” কিন্তু যদি ভালো গল্প হয় তাহলে নাকি আবারও চলচ্চিত্রে ফিরে আসার আশাও প্রকাশ করলেন ববিতা। “অবশ্যই ভালো গল্প হলে ফিরে আসবো। সেই পুতুল খেলার বয়স থেকে চলচ্চিত্রের সঙ্গে মিশে আছি। আমার মন কেমন কাঁদে তা আমি বলে বোঝাতে পারবো না,” বললেন তিনি। পাঁচবারের জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রীর রূপালি যাত্রা শুরু হয়েছিল ভগ্নিপতি জহির রায়হানের হাত ধরে, ‘সংসার’ সিনেমার একজন শিশুশিল্পী হিসেবে।

পরে সত্তরের দশকে ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘আলোর মিছিল’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘লাঠিয়াল’- এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ঢাকাই সিনেমার প্রথম সারির নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।  সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় ‘অনঙ্গ বউ’ চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক সুনাম অর্জন করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ