‘আমি এখন নিউ মিডিয়ার ব্যাপারে আগ্রহী’

আপডেট: নভেম্বর ২২, ২০১৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
গানের মানুষ তাহসান খান। অভিনয়ে এসেও চমকে দেওয়ার মতো খ্যাতি অর্জন করেছেন। কিন্তু জনপ্রিয়তার চেয়ে কাজের মানকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। বেশকিছুদিন হলো অভিনয় থেকে দূরে সরে আছেন। ব্যাস্ত হচ্ছেন গানে। আসছে নতুন অ্যালবাম। ঝুঁকছেন আরও নতুন কিছুতে। সবকিছু নিয়ে গ্লিটজ এর মুখোমুখি তিনি।
গ্লিটজ: নতুন অ্যালবাম আসছে যতদূর জানি…
তাহসান: অ্যালবামের কাজ চলছে। যতদিন না মনঃপুত হচ্ছে সব গান, ততদিন বের করবো না।
গ্লিটজ: নতুন অ্যালবাম নিয়ে কি ধরনের পরিকল্পনা করছেন? নতুন কি পাচ্ছি আমরা?
তাহসান: এবারের অ্যালবামে নতুন কিছু করতে চাই। কিছুদিন আগে একটা সিঙ্গল বের করলাম-‘ভালোবেসে নিরুদ্দেশে’। ওটার রেসপন্স মোটামুটি দেখলাম- মানুষ কি রকম এ নতুন ধরণের গান নিচ্ছে। খুব নতুন কিছু করবো না। আমার ঘরানার মধ্যে থেকেই একটু ইলেক্ট্রনিক মিউজিক নিয়ে কাজ করবো।
গ্লিটজ: ‘মন কারিগর’ অ্যালবাম প্রকাশের অনেকদিন পর এর মিউজিক ভিডিওতে অংশ নিলেন। কেমন সাড়া ছিলো গানগুলোতে?
তাহসান: সিডি চয়েজ থেকে গত ঈদে প্রকাশিত হয় অ্যালবামটি। রবিউল ইসলাম জীবনের কথায় তিনটি গান ছিলো এতে। অ্যালবামের ‘মন কারিগর’ আর ‘কেউ না জানুক’ গান দুটি খুব শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। ইমরান খুব ভালো কাজ করেছে অ্যালবামটিতে। ওর সঙ্গে কাজ করে খুব হ্যাপি। এ অ্যালবামের একটি গানের মিউজিক ভিডিও করছি আমরা। এতে আমি ইমরান ছাড়াও সুজানা ও এবিএম সুমন পারফর্ম করেছে। ডিসেম্বরের শুরুতেই এটি প্রকাশিত হবে।
গ্লিটজ: গান নিয়ে আর কি ব্যস্ততা এখন আপনার?
তাহসান: এখন কনসার্ট বেশি হচ্ছে। কনসার্টের সিজন শুরু হয়েছে। কনসার্টের ব্যস্ততা চলছে। আর একটা সিনেমার গান করবো সামনেই। মোস্তফা কামাল রাজের ‘তুমি যে আমার’ চলচ্চিত্রে নাভিদের কম্পোজিশানে গান করার কথা রয়েছে। সিনেমার গান তো আমি এমনিতেই বেশি করি না, তবে এ গানটা ভালো হচ্ছে তাই করছি। আর এর মাঝে তানিম রহমান অংশুর পরিচালনায় একটা সিনেমার গান করেছি। ডুয়েট গান। আমার সঙ্গে কন্ঠ দিয়েছে কণা। ওটা রিলিজ পায়নি, সামনেই রিলিজ পাবে। এ কাজটাও খুব ভালো হয়েছে।
গ্লিটজ: উইফোনের প্রচারে দশহাজার ফুট উঁচু থেকে স্কাইডাইভ করেছেন। কেমন ছিলো সেই অনুভূতি?
তাহসান: বেশকিছু পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ করছি ইদানীং। গত সপ্তাহে স্কাইডাইভ করতে গিয়েছিলাম থাইল্যান্ডে। এটা ছিলো ‘উই ফোন’-এর একটা ক্যাম্পেইন। অসাধারণ অভিজ্ঞতা। জীবনে খুব কম মানুষের এমন অভিজ্ঞতা হয়। এটা আসলে বলে বোঝানো যাবে না, দশ হাজার ফিট উঁচু থেকে প্লেন থেকে লাফ দেয়া, এটা বলার সময়ও আমি ওই মুহুর্তটাতে চলে যাচ্ছি। প্লেন থেকে যখন লাফ দিলাম, তখন পড়ছি তো পড়ছিই। মাধ্যাকর্ষণের টানের প্রভাব যে অন্যরকম রোমাঞ্চ তা সত্যিই অন্যরকম।
গ্লিটজ: মনে হয়নি বড় কোন দুর্ঘটনা হতে পারে?
তাহসান: একটু ভয় হয়েছে। মনে হয়েছে, যদি কোন জটিলতা হয়, প্যারাসুট না খোলে..
গ্লিটজ: কার কথা মনে হয়েছে তখন?
তাহসান: ওইসময় কারও কথা মনে পড়েনা। শুধু নিজের কথাই মনে পড়ে। এতে কেউ মাইন্ড করার কথা না (মিথিলাকে ইঙ্গিত করে হাসি)। মৃত্যুর ভয়ও পাইনি। রোমাঞ্চটা খুব অনুভব করেছি।
গ্লিটজ: নাটক করছেন না অনেকদিন…
তাহসান: নাটক অফ রেখেছি। একদম অফ মানে অফ। ভালো কাজ যতক্ষণ পর্যন্ত আমি এনসিওর করতে পারবো না ততক্ষণ করবো না। ডিরেক্টর, গল্পকার, ক্যামেরাপারসন সবাইকে একহতে হবে। এটা খুব কম পাচ্ছি। তাই ভরসা পাচ্ছি না। ভালো কাজ না হলে করবো না।
গ্লিটজ: মনে হয়নি, যে নাটক তো হলো এবার ফিল্মে মুখ ফেরানো যাক…
তাহসান: ফিল্ম তো আরও বড় আয়োজন। অনেকবেশি কমিটমেন্টের বিষয়। ডিরেক্টর-প্রডিউসার আরও যারা আছেন সবার ক্ষেত্রেই। আমার আসলে অতো সময় নেই যে মাসে ত্রিশদিন ফিল্মে দিয়ে দিবো। জীবনে একটা ফিল্ম করবো এমন ভাবনা ছিলো। আমি কখনও প্ল্যান করে কিছু করিনি। ফিল্মটা এখন ভালোর দিকে যাচ্ছে, যদি ব্যাটে বলে মেলে তো করবো। কিন্তু আসলে আমি এখন নিউ মিডিয়ার ব্যাপারে আগ্রহী। নিউ মিডিয়া ব্যাপারটা হচ্ছে, দেখুন তরুণরা এখন অনলাইনে ইউটিউবেই বেশি সময় পার করছে। আমার আগ্রহটা এখন ওইদিকেই।
গ্লিটজ: ব্যাপারটা একটু খোলাসা করবেন?
তাহসান: ইউটিউবে আমি একটা ভ্লগ (ভিডিও ব্লগিং) তৈরি করছি আমার চ্যানেলে। ওটা বানাতেই আমার বেশি ভালো লাগছে। ওখানেই বেশি সময় দিচ্ছি। যেটা ভালো লাগে তাই করা উচিত। এই যেমন, কিছুদিন আগে নেপালের পোখারা গেলাম, ওটার ভিডিও ছাড়লাম, কিছুদিন আগে আমার স্কাই ডাইভিংয়ের ভিডিওটাও আপ করেছি ওখানে। মানুষ এগুলো দেখেই ভবিষ্যতে বেশি বিনোদিত হবে বলে আমার মনে হয়। সারা পৃথিবীতেই এখন মানুষ ভিডিও ভ্লগের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এটা আমি বাংলাদেশে চালু করতে যাচ্ছি। ইউটিউবে আমার চ্যানেলে গেলেই সবাই দেখতে পাবেন। ( সাক্ষাতকারটি বিডিনিউজ থেকে নেওয়া)।