‘আমি নিউজিল্যান্ড-বিলেতের সিইসি হলে চা খেতে খেতেই নির্বাচন করতাম’

আপডেট: মে ২০, ২০২২, ৬:০১ অপরাহ্ণ

কাজী হাবিবুল আওয়াল

সোনার দেশ ডেস্ক :


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আওয়াল বলেছেন, ‘আমাকে যদি নিউজিল্যান্ড কিংবা বিলেতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে দেওয়া হতো, তাহলে আমি চেয়ারে বসে চা খেতে খেতেই নির্বাচনটা শেষ করে ফেলতে পারতাম।

আমাকে কোনও স্ট্রেস (চাপ) হতো না, আমার প্রেশার বাড়তো না। বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় আমাদের কিন্তু স্ট্রেস করে ফেলে। আমাদের সতর্ক থাকতে হয়। নির্বাচন কমিশন কিন্তু এককভাবে কখনও একটি নির্বাচনকে সফল করতে পারবে না।

এর জন্য যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী আছেন, যেমন- পুলিশ, জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্যদেরকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’
শুক্রবার (২০ মে) সকালে সাভারে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম-২০২২ এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
হাবিবুল আওয়াল বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশেই নির্বাচন/ভোটাধিকার প্রয়োগ হয়।

আপনারাও জানেন আমারও জানি, সেখানে কিন্তু কোনও সহিংসতা হয় না। সেখানে সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সবাই গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। আমাদের একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়, ভোটাধিকার প্রয়োগটাই।

এখানে কিন্তু আমাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন লাগবে। আমরা চাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। অনেক সময় ভোটে অনেক বড় ধরনের সহিংসতা হয়ে থাকে। মারামারি হয়ে থাকে। একজন লেখক বলছিলেন, এটা আমাদের নির্বাচনের সংকট নয় এটা আমাদের সাংস্কৃতিক সংকট।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতিতে কীভাবে যেন গড়ে উঠেছে- নির্বাচনের সময় সহিংসতা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই বিষয়টা বেদনাহত, মর্মাহত করে তোলে। এই চর্চা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। হয়তো একটু সময় লাগবে। ভোটাধিকার প্রয়োগ কিন্তু এখনও নাগরিক দায়িত্ব। দায়িত্ব জিনিসটা একটা মনস্তাত্তি¡ক।’
সিইসি বলেন, ‘ভোটাধিকার প্রয়োগের সময় ভোটাররা সচেতন ও প্রতিবাদী হয়ে উঠলে ভোটাধিকার প্রয়োগ অনেকটাই সহজ হবে। এ জন্য আমাদের (ভোটার) মনস্তাত্তি¡ক শক্তিও অর্জন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অনেকগুলো কাজ আমাদের হাতে রয়েছে। আজকে ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হলো। এমন আরও অনেক কাজ রয়েছে।

কাজী হাবিবুল আওয়াল বলেন, ‘অচিরেই বিএনপিসহ সব দলকে নির্বাচন নিয়ে সংলাপের জন্য ডাকা হবে। এটা আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই হবে।’

ইভিএমের সক্ষমতা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইভিএম কতটুকু দরকার এবং ইভিএম নিয়ে আরও কিছু সভা সেমিনার করবো। এরপর আমরা ইভিএম সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য চিন্তা করবো। এই মুহূর্তে আমি একা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না।

ইভিএমে ৩০০ আসনের বিষয়েও এখন কিছুই বলা সম্ভব নয়। তবে সামনে আলোচনার মাধ্যমে বোঝা যাবে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেওয়া হবে।’

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খন্দকার বলেন, ‘সারা দেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হবে। হালনাগাদ করা এই ভোটার তালিকা দিয়েই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন