আমের গাছে গাছে গুটির সমারোহ || ১শ মেট্রিকটন রফতানির পরিকল্পনা

আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০১৭, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা



রাজশাহীর বাঘায় গাছে গাছে আমের মুকুল ঝরে গিয়ে গুটির সমারোহ দেখা দিয়েছে। উপজেলার গাছগুলোর পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে আমের গুটি। গুটি দেখে চাষিদের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছে। উপজেলা থেকে চলতি মৌসুমে ১শ মেট্রিকটন আম দেশের বাইরে রফতানি পরিকল্পনা করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় আমের বাগান রয়েছে আট হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমিতে। তোতাপরি, বৌভুলানী, রানীপছন্দ, জামাইখুসি, গোপাললাড়––, ফজলি, ল্যাংড়া, হিমসাগর, গোপালভোগ, বৃন্দাবন, লক্ষণা, বোম্বাই, খিরসা, দাউদভোগ, আ¤্রপালি, আশ্বিনা, ক্ষুদি খিরসা, বৃন্দাবনী, লক্ষণভোগ, কালীভোগসহ প্রায় দেড় শতাধিক জাতের আম রয়েছে উপজেলায়। প্রতিবছর আমের মৌসুমে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। চলতি মৌসুমে ৮৫ শতাংশ গাছে মুকুল ফুটে। ফলে ৭৫ হাজার ৯৬৬ মেট্রিকটন আম উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আম চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব আম গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আম চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গাছে যে পরিমাণ মুকুল ও গুটি দেখা দিয়েছে তাতে আমের বাম্পার ফলন হওয়ার আশা রয়েছে। এদিকে খেয়াল রেখে রাতদিন বাগান পরিচর্যা করে যাচ্ছে চাষিরা। সারি সারি আম বাগান আর সুস্বাদু ও বাহারি জাতের আমের কথা উঠলেই চলে আসে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নাম। অন্য বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে পর্যাপ্ত পরিমাণ আমের মুকুল আছে।
গাছে যে পরিমাণ মুকুল শেষে গুটি এসেছে, তাতে এক তৃতীয়াংশ টিকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। গাছে মুকুল আসার পর থেকে আম পাড়া পর্যন্ত ১২ থেকে ১৫ বার কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। তাতে হেক্টর প্রতি ৩৮ থেকে ৪৫ হাজার টাকার বালাইনাশক প্রয়োগ করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি সঠিকভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন, রফতানিসহ বাজারজাতকরণে আয় বাড়বে। পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত বালাইনাশক প্রয়োগ রোধ করা গেলে আমের স্বাদসহ গুণগতমানও বাড়বে। গত বছর উপজেলা থেকে ৫০ মেট্রিকটন আম বিদেশে রফতানি করা হয়েছিল। চলতি বছরে ১শ মেট্রিকটন আম দেশের বাইরে রফতানি করা হবে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ