আমের পর ঢাকার ট্রেনে চড়বে কোরবানি পশু বছরের অন্য সময়ও যেন এই সুবিধা অব্যাহত থাকে

আপডেট: জুলাই ২৮, ২০২০, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাসের কারণে অনেক কিছুই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আর এই পরিবর্তনের কারণে দেশের অর্থনৈতিক দিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন ঘটছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের মধ্য মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ও দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার জন্য প্রতি নিয়ত সরকার কাজ করছে। আর এই দুর্যোগে দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশনায় দেশের মন্ত্রণালয়গুলো নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে ছোট-খোট ভুল ত্রুটির মধ্য দিয়ে করোনাভাইরাসের মতো অদৃষ্ট শক্তির বিরুদ্ধে সবাই লড়াই করে যাচ্ছেন। সেই সাথে অনেক কিছু নতুন নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসাবে এবার রাজশাহী অঞ্চলের আম দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর জন্য বাস-ট্রাক ও কুরিয়ারের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে কম খরচে ট্রেন ও ডাক বিভাগ এগিয়ে আসে। তারা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম ঢাকায় ট্রেন ও ডাক বিভাগের পরিবহনে পৌঁচ্ছে দেন। এতে করে আম চাষীরা উপকৃত হয়। আমের সাফল্যের পর করোনাভাইরাসের ঝুঁকির কারণে এবার কোরবানির পশু পরিবহনে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুই জোড়া ‘ক্যাটেল স্পেশাল’ ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে একজোড়া এবং খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটে একজোড়া ট্রেন চলবে। এই ট্রেনে ৫৪১ টাকা ভাড়ায় একটি পশু রাজশাহী থেকে ঢাকায় নেয়া যাবে। ব্রডগেজের একটি ওয়াগনে ২০টি গরু পরিবহন করা যাবে। ২০টি গরুর প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২০ টাকা। ফলে রাজশাহী-ঢাকার ৩৪৩ কিলোমিটার পথের জন্য গরুগুলোর মোট ভাড়া হবে ৬ হাজার ৮৬০ টাকা। এর সঙ্গে ১ হাজার ৩৭৬ টাকা অতিরিক্ত সারচার্জ এবং টার্মিনাল চার্জ ধরা হবে ২ হাজার ৫৭৪ টাকা। সবকিছু ধরে একটি ওয়াগনের ২০টি গরুর ভাড়া হবে ১০ হাজার ৮১০ টাকা। একটি গরুর জন্য ভাড়া পড়বে ৫৪১ টাকা।
ক্যাটেল ট্রেন চালু করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন ব্যবসায়ী ও খামারিদের কাছ থেকে চাহিদা পাওয়ার পরপরই ট্রেন চলাচলের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। তাই রেলপথে পশু পরিবহনের জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাহিদা দেয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া ট্রেনে পশু পরিবহনের বিষয়ে রাজশাহী অঞ্চলের গরু খামারি, ব্যবসায়ী, উপজেলা ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এরপরই সংশ্লিষ্টদের সুপারিশমালা অনুযায়ী দুই রুটে ক্যাটেল স্পেশাল ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রান্তিক খামারিদের উৎসাহ প্রদান এবং কোরবানির পশু সহজে ভোক্তাদের নিকট পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে খুব অল্প টাকায় পশু পরিবহনের জন্য এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ট্রেনে পশু পরিবহন করলে ব্যবসায়ীরা রাস্তার নানান ধরণের বিড়ম্বনা থেকে মুক্ত থাকবেন। কারণ ট্রাকে ভাড়া করে পশু রাজশাহী অঞ্চল থেকে পাঠাতে রাস্তায় চাঁদা দেয়াসহ অনেক হয়রানি শিকার হন। তাই কোরবানির সময় ছাড়াও ট্রেনে এই সুবিধা সারাবছর চালু থাকলে রাজশাহীসহ অন্য এলাকার ব্যবসায়ীরা সুফল ভোগ করতে পারবেন। তাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক পণ্য পরিবহনের জন্য সারাবছরের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এটাই রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ