আম প্রক্রিয়াজাতকরণ করতে পারলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব : চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষিমন্ত্রী

আপডেট: মে ৬, ২০২১, ৯:১৯ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর প্রতিনিধি:


কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বাংলাদেশ আজ দুর্ভিক্ষের দেশ নয়। বর্তমান বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ খাদ্যে স্বংয়সর্ম্পূণ এবং কৃষিতে অভূতপূর্ব সফলতা অর্জন করেছে। কৃষি পণ্য হিসেবে আমকে বহুমুখি করার মধ্য দিয়ে রফতানি বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরো গতিশীল করা হবে। তিনি বৃহস্পতিবার (০৬ মে) দুপুরে আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জে বারি আম-৪ এবং বারি আম-১১ এর উৎপাদনশীলতা শীর্ষক কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশ আজ কৃষিতে বড় সাফল্য অর্জন করেছে। এ সফলতাকে ধরে রাখতে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। গবেষকদের কৃষিতে অনেক সাফল্য রয়েছে, তার মধ্যে আরেকটি সাফল্য হচ্ছে সুমিষ্ট আম। আর এটি প্রক্রিয়াজাতকরণ করতে পারলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। বিশ^বাজারে টিকতে গেলে মানসম্পন্ন আম উৎপাদন করতে হবে, তাহলে টিকতে পারা যাবে। যেটা চায় সেটা হলো নিরাপদ, সুমিষ্ট আম। যেটা হবে বিশ্ব দরবারে সমাদৃত।
তিনি আরও বলেন. নিরাপদ আম উৎপাদন হলে প্রক্রিয়াজাতকরণ, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণে করোনাভাইরাসকালে তেমন প্রভাব পড়বে না। আম উৎপাদনে এ জেলার সুনাম রয়েছে। সুনাম ধরে রাখতে বিষমুক্ত আম দেশের ভোক্তাদের মাঝে পৌছে দেয়ার দায়িত্ব আপনাদের।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমসহ অন্যান্য ফল রপ্তানির জন্য বিদেশ থেকে ‘ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট’ মেশিন আনার প্রক্রিয়া চলছে। যার মাধ্যমে পোকা-মাকড় দমনসহ বাংলাদেশের আম বিদেশে রপ্তানি শুরু হবে। এছাড়া এ জেলার খিরাসপাত আম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। বারি’র ‘আমসহ অন্যান্য ফল রপ্তানির জন্য বিদেশ থেকে ‘ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট’ মেশিন আনার প্রক্রিয়া চলছে। যার মাধ্যমে পোকা-মাকড় দমনসহ বাংলাদেশের আম বিদেশে রপ্তানি শুরু হবে।
বারি’র মহাপরিচালক ড. মো. নাজিরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি মো. আব্দুল ওদুদ, চাষী শামিম খান।
সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হরিদাস চন্দ্র মোহন্ত। শেষে কৃষকদের মাঝে বারি আম-৪ ও বারি আম-১১ এর চারা বিতরণ করেন মন্ত্রী।
এর আগে কৃষিমন্ত্রী জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার চিনিয়াতলা এলাকায় ব্রি- ৮১ জাতের ধান কর্তন ও কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এখানে কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, খাদ্য নিরাপত্তায় অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রতিবছর জনসংখ্যা বাড়ছে,অন্যদিকে নানা কারণে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমছে। রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তণে বিরূপ প্রভাবও। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইতিমধ্যে ফসলের অনেক অনেক জাত ও চাষাবাদের প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। ফলে,ক্রমশ জনসংখ্যা বাড়লেও খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকবেলা করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, আজকে মাঠে ব্রি ৮১ জাতের ধান কাটা হচ্ছে। এর ফলন ভাল। বিঘা প্রতি ৩০ থেকে ৩১ মণ। এটি জনপ্রিয় ব্রি ২৮ জাতের মতো। ব্রি ২৮ দীর্ঘদিন ধরে চাষ হচ্ছে কিন্তু উৎপাদন কমে যাচ্ছে। সেজন্য এ নতুন ব্রি ৮১ জাতটি কৃষক পর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণের উদ্যেগে গ্রহণ করা হয়েছে। চাষিরাও এটি চাষে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অচিরেই ব্রি ধান ৮১ জনপ্রিয়তা ব্রি ধান ২৮ এর মত হবে। এ উচ্চ ফলনশীল জাতটি চাষের মাধ্যেমে ধান উৎপাদন উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণে বাড়বে এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় এটি আশানুরূপ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান কৃষকবান্ধব সরকার কৃষিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। সরকার অত্যান্ত উদারভাবে কৃষকদেরকে বিভিন্ন প্রণোদনা ও গবেষণা অর্থ বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক গবেষণাগারে তৈরি,প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রদান ও বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে গবেষণার ওপর গুরুত্ব প্রদান অব্যাহত থাকবে। যাতে করে ভবিষ্যাতেও সকল চালেঞ্জ মোকাবেলা করে খাদ্য উদপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যা নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হয়।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীরের সভাপতিত্ব আয়োজিত কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। বক্তব্য রাখেন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, বিএআরসি ঢাকার নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান ও গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস ও কামরুল ইসলাম প্রমূখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাস, ডিএই ঢাকার মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আসাদুল্লাহ, বিএডিসি ঢাকার চেয়ারম্যান ডঃ অমিতাভ সরকার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ ও পুলিশ সুপার এ এইচ এম আব্দুর রকিব , সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসি, রাজশাহী বিএমডিএ’র চেয়ারম্যান ডঃ আকরাম হোসেন চৌধুরী,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য বদিউজ্জামান বাদশা, রাজশাহী অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্স্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর। তিনি জানান, উচ্চফলনশীল ব্রি ধান ৮১ জাতটি ব্রি ২৮ জাতের পরিপূরক। কিন্তু এটি ব্রি ২৮ এর চেয়ে সরু। ঝড়বৃষ্টিতে ব্রি ২৮ হেলে পড়ে কিন্তু নতুন ব্রি ৮১ হেলে পড়ে না। তিনি বলেন, এ জাতের ধানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, ধান পাকার পরও পাতাগুলো সবুজ থাকে। মাঝারি উঁচু জমি থেকে উঁচু জমিতে খুব ভালো ফলন দেয়। নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ অঞ্চলে এই ধানের ফলন অনেক ভালো পাওয়া যায়। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ৬.৫ থেকে ৭ মেট্রিক টন।
তিনি আরও জানান, রান্না করার পর এটি বাসমতীর মতো দেড় গুণ লম্বা হয়ে যায়। এই চালে ২৫ শতাংশের ওপর অ্যামাইলোজ থাকে। এতে প্রোটিনের পরিমাণ ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। ভাত ঝরঝরে ও খেতে সুস্বাদু হয়। অন্যদিকে ব্রি ২৮ এ প্রোটিন থাকে মাত্র ৮ শতাংশ। এই জাতের ধান থেকে উৎপাদিত আতপ চাল বিদেশে রপ্তানিযোগ্য।
এদিকে, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে হেফাজতের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন,‘ যারা ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের মূলোৎপাটন বাংলাদেশ থেকে করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট এবং তাদের বিচার হবে বাংলার মাটিতে।