আরও ১০টা পৃথিবী আছে মহাকাশে!

আপডেট: জুন ২১, ২০১৭, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মহাকাশে, যেটা আমাদের নিজস্ব সৌরজগত, সেখানে এখন গ্রহ, গ্রহাণু, নক্ষত্র-এসবকিছু মিলিয়ে সংখ্যাটা কত জানেন? চার হাজার চৌঁত্রিশ। সোমবারই নাসার জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা আরও ২১৯টি ছোট, মাঝারি মাপের গ্রহ আবিষ্কার করেছেন। কেপলার স্পেস টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে এদের উপস্থিতি। এদের মধ্যে ১০টি এমন ছোট, পাথুরে গ্রহ আছে যা অনেকাংশে মানুষের বাসযোগ্য। এক বিবৃতিতে এমনই জানিয়েছে নাসা। এখানেই উৎসাহিত হচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, এই সৌরজগতে তাহলে পৃথিবীর বাইরেও প্রাণের সন্ধান মিলতে পারে। আবার মানুষের বসবাসযোগ্য হলে, পরীক্ষা নিরীক্ষার পরিসর আরও প্রশস্ত হবে।
কেপলার মিশনের প্রথম অধ্যায়ে প্রায় সিগনাস নক্ষত্রপুঞ্জের আওতায় থাকা দু’লক্ষ তারার ওপর নজরদারি চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আমাদের চেনা পৃথিবীর বাইরে নতুন পৃথিবী খোঁজাই ছিল উদ্দেশ্য। নতুন গ্রহ আবিষ্কারের পর এবার নাসার তালিকায় মোট চার হাজার চৌত্রিশটা তারার ভিড়। এরমধ্যে বেশ কিছু গ্রহের পৃষ্ঠে জলের উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ফলে সেখানে প্রাণের বিকাশ ঘটতে পারে বলে আশা করছেন তাঁরা। ২০০৯ সালে সূর্যের অক্ষে স্থাপন করা হয়, কেপলার স্পেস টেলিস্কোপকে। এর কাজ ছিল আমাদের সৌরজগতের বিভিন্ন প্রান্ত সহজভাবে বিজ্ঞানীদের সামনে তুলে ধরা। যাতে সৌরজগতের অচেনা অংশের পরিচয় পাওয়া যায়। সেখানে সূর্যের মতো কতগুলি নক্ষত্র আছে, অথবা কটা গ্রহের উপস্থিতি রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য মেলে। কেপলার মিশনের প্রথম চার বছরে সৌরজগতের মাত্র দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ নিরীক্ষণ করা গিয়েছিল। বিজ্ঞানীদের অনুমান ছিল অন্তত ১০০ থেকে ২০০ টি গ্রহ আড়ালে থেকে যাচ্ছে।
তাহলে এখন প্রশ্ন এই বিশাল সৌরজগতে আমরা একা কিনা ? উত্তর কিন্তু না এর দিকেই যাচ্ছে। নাসার কেপলার প্রোগ্রাম সায়েন্টিস্ট মারিও পেরেজ জানাচ্ছেন এটা আপাতত নিশ্চিত যে দোসর আছে আমাদের। নতুন আবিষ্কৃত অপেক্ষাকৃত ছোট গ্রহগুলির পৃষ্ঠ পাথুরে, রুক্ষ এবং আকারে আমাদের পৃথিবী থেকে ১.৭৫ গুণ বড়। তিন গুণ থেকে চার গুণ বড় গ্রহগুলি অবশ্য বায়বীয়, গ্যাসের পরিমাণ এগুলির বায়ুম-লে অনেক বেশি।
তাহলে মোদ্দা কথা হল এই পৃথিবীর বাইরে থাকা যায় কিনা, তার খোঁজ শুরু হয়েছে। আর বেশ আশাব্যঞ্জক উত্তরই মিলছে এখনও পর্যন্ত। তবে যে প্রশ্নটা এখনও সৌরজগতের আনাচে-কানাচে ঘুরছে তা হল, তোমার ঘরে বসত করে কয় জনা?
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন