আরটিজেএ’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিলেন মেহেদী হাসান

আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২২, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ


সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:


রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (আরটিজেএ) থেকে মাইনুল হাসান জনি (সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সদস্য) এর সদস্য পদ বাতিল হওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সংগঠনের নির্বাহী কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে সংগঠনের নিয়মশৃংখলা পরিপন্থী ও সংগঠনের ভাবমূর্তি বিনষ্টের দায়ে আরটিজেএ’র গঠনতন্ত্রের ০৮ এর (গ) ধারা অনুযায়ী মাইনুল হাসান জনির সদস্য পদ বাতিল করা হয়। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও তার পদ বাতিল হয়ে যায়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের পদ শূন্য হওয়ায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসানকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাইনুল হাসান জনি আরটিজেএ’র পরিচয় বা পদ-পদবী বা সিল ব্যবহার করে কোনো কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে এর কোনো দায়ভার আরটিজেএ বহন করবে না বলে আরটিজেএ’র সভাপতি মেহেদী হাসান শ্যামল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

এদিকে, পাল্টা বিবৃতি দিয়ে আরটিজেএ নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে রুখতে সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়েছেন সাধারন সম্পাদক জনি।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, উদ্বেগের সঙ্গে আবারও লক্ষ্য করছি আরটিজেএ সভাপতির পদবী ব্যবহার করে মেহেদী হাসান শ্যামল আমার সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে মর্মে সংগঠনের সকল সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে গত ৮ জানুয়ারি ২০২২ একবার বার্তা পাঠিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছিলেন। যা ছিল উদ্দেশ্যপ্রণেদিত ও নিজের অপকর্ম ঢাকার অপকৌশল। তিনি (২৬ জানুয়ারি) আবারও আরেকটি বার্তা পাঠিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির তৎপরতা চালিয়েছেন।

এর আগে তার (মেহেদী হাসান শ্যামল) বিরুদ্ধে সংগঠনের নামে করোনা সহায়তার সরকারি চাল উত্তোলন করে তা আত্মসাতের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। যার কোনো প্রতিবাদ তিনি জানান নি। ফলে নির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতভাবে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণেœর ঘটনায় গঠনতন্ত্রের ৮ এর ‘গ’ ধারায় মেহেদী হাসান শ্যামলের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই তদন্ত কমিটি দীর্ঘ ৪৫ দিন তদন্ত করে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে করোনাকালে সরকারি চাল আত্মসাত ও পত্রিকায় প্রকাশিত অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে।

যেহেতু মেহেদী হাসান শ্যামলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে। এরফলে গঠনতন্ত্রের ৮ এর ‘গ’ ধারা লংঘিত হওয়ায় মেহেদী হাসান শ্যামলের সদস্যপদ বাতিল হয়েছে। সেহেতু মেহেদী হাসান শ্যামল সংগঠনের কোন সভা আহবান করার ক্ষমতা রাখেন না এবং সংগঠনের পক্ষে কোন বিবৃতি দিতে পারেন না।

মেহেদী হাসান শ্যামল জানতে পারেন, তার কর্মকা- সংগঠন বিরোধী। ফলে তিনি নিজেকে বাঁচাতে নানা তৎপরতা শুরু করেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি আমার সদস্যপদ বাতিল সংক্রান্ত বার্তা সংগঠনের সব সদস্যসহ গণমাধ্যমে পাঠিয়ে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের তৎপরতা আগেই চালিয়েছেন। ঘটনাটি উদ্বেগজনক হওয়ায় প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি শ.ম সাজু সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে সকল সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভা আহ্বান করেন। এরপরই আমার সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে বলে একটি বিবৃতি আবারও পাঠিয়ে সংগঠন নিয়ে তার চলমান ষড়যন্ত্র প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন মেহেদী হাসান শ্যামল।

এনিয়ে সদস্যদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ করছি। সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় আগামী ২৯ জানুয়ারি এর মতবিনিময় সভা থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। সংগঠন নিয়ে ষড়যন্ত্র রুখতে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে যারা সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্টের চক্রান্ত করছেন তাদের বিষয়ে সজাগ থাকার অনুরোধ করছি।