আরডিএ’র অনুমোদিত নকশা ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণ!

আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২০, ১:০১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) অনুমোদিত নকশা ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন কমিটেড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড কোম্পানি। ভবন নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ফ্ল্যাট ক্রেতারা বিষয়টি নিয়ে বারবার অভিযোগ করার পরও কাজ বন্ধ করছেন না নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠান। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। বিষয়টি সমাধানের জন্য তারা আরডিএ বরাবর চিঠি প্রদানও করেছেন। এদিকে অনুমোদিত নকশা দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ভবন কেন ভেঙে ফেলা হবে না তা জানতে চেয়ে জমির মালিককে চিঠি দিয়েছেন আরডিএ। সেই চিঠির উত্তরও জালিয়াতি করে নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানটি দিয়েছে বলে ফ্ল্যাট ক্রেতাদের অভিযোগ। দ্রুত ভবন নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোকবল দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর আরডিএ কর্তৃপক্ষ নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠান কমিটেড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড কোম্পানি বরাবর একটি নোটিশ জারি করে। নোটিশে বলা হয়, রাজশাহী হাউজিং এস্টেট মহল্লার সপুরা মৌজা আর এস-২৭২৩ দাগে রাজশাহী হাউজিং এস্টেট প্লট নম্বর ৩৫৯ সেক্টর নম্বর ২ এ ছয় তলার কলাম পর্যন্ত ইমারত নির্মাণ কাজ করছেন। অথচ তারা ওই ইমারতের অনুমোদিত নকশা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেহেতু ওই অবৈধ নির্মাণ কেন ভেঙে ফেলা বা অপসারণ করা যাবে না তার সন্তোষজনক জবাব আগামি ৭ সাত দিনের মধ্যে আরডিএকে জানাতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফ্লাট ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানটি আরডি হতে কোনো প্রকার নকশার অনুমোদন না নিয়ে ভবন নির্মাণ করছেন। আমরা ভবন মালিকের কাছে ভবন নির্মাণের অনুমোদিত নকশার ড্রয়িং দেখতে চাইলেও তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া ভবন নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রীও ব্যবহার করা হচ্ছে।
আব্দুর রশিদ নামের এক ফ্ল্যাট ক্রেতা বলেন, আমি নির্মাণাধীন ওই ভবনে দুইটা ফ্ল্যাট ৮৫ লাখ ১০ হাজার টাকায় ক্রয় করেছি। এর মধ্যে ৩৪ লাখ টাকা আগেই প্রদান করেছি। আমি দেশের বাইরে থাকায় তখন অনুমোদিত নকশা দেখতে পারিনি। দেশে আসার পর ভবন নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করতে দেখে আরডিএর অনুমোদিত নকশা দেখতে চাইলেও তিনি এখন পর্যন্ত নকশা দেখাতে পারেন নি। আর এদিকে ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ না রেখে অব্যাহত রেখেছে। তাই আমরা ফ্ল্যাট ক্রেতারা সবাই আশঙ্কায় রয়েছে ভবনটি নির্মাণ বন্ধ করা না গেলে আমরা তো ক্ষতিগ্রস্ত হবই, পাশাপাশি এই ভবনটি ভেঙে আশেপাশের ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছি।
কমিটেড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌফিক আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপশহরে আমাদের ছয়/সাত তলা ভবন নির্মাণের কোনো প্রজেক্ট নাই। আমরা ওখানে এ ধরনের কোনো এপার্টমেন্টও নির্মাণ করছি না। আপনার কাছে কিছু ভুল মেসেজ গেছে। আমি আপনাকে পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরডিএর অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা নকশা দেখানোর জন্য আরডিএ থেকে একটি নোটিশ জারি করেছিলাম। তারা তার লিখিত একটি জবাবও দিয়েছে। এখন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি সিদ্ধান্ত নেবেন ওই ভবনটির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আগামি ফেব্রুয়ারি মাসে এ বৈঠক বসতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ