বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

আর ১৫ দিন পর বাজারে উঠছে আগাম জাতের পেঁয়াজ, দাম কমার সম্ভাবনা

আপডেট: December 8, 2019, 1:09 am

তারেক মহামুদ


পুঠিয়া উপজেলার একটি খেতে পেঁয়াজ পরিচার্যায় এক চাষি-সোনার দেশ

রাজশাহীতে সঠিক সময়ে আগাম জাতের পেঁয়াজ লাগানোর পরেও শুধু বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে বৃষ্টির পরে জমিতে পানি নেমে যাওয়ায় আবারো নতুন করে পেঁয়াজের বীজ রোপনের কারণে দেরি হচ্ছে। ্এইজন্য নতুন পেঁয়াজ পুরোদমে বাজারে আসতে সময় লাগবে আরো ১৫ দিন। তখন পেঁয়াজের দাম কমতে পারে বলে মনে করছেন কৃষকরা।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে চার হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে পুঠিয়া, দুর্গাপুর ও বাগমারায় সর্বাধিক আবাদ হয়েছে। এই তিন উপজেলার কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগাম জাতের কিছু পেঁয়াজ বাজারে উঠেছে, তবে তা পরিপক্ক নয়। দাম ভালো পাওয়ায় এবং কিছু কৃষক নগদ টাকার জন্য এই অপরিপক্ক পেঁয়াজ বাজারজাত করছেন, তবে তা সামান্যই। ওই কৃষকদের মতে পুরোদমে আগাম জাতের পেঁয়াজ উঠবে আর ১৫ দিন পরে। এই পেঁয়াজ রাজশাহীর হাটগুলোতে উঠলে বাজারে আমদানি বাড়বে, কমবে পেঁয়াজের দাম।
এদিকে জমিতে আগাম জাতের পেঁয়াজে বীজের দাম বেশি ও বৃষ্টির কারণে কিছু পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক। তাই নতুনভাবে পুনরায় আবাদ করতে খরচের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। এক বিঘা জমিতে আগাম জাতের পেঁয়াজ তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে, ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। এক বিঘায় পেঁয়াজের বীজ লেগেছে পাঁচ থেকে ছয় কেজি- যার দাম ২২ হাজার টাকা, সার লেগেছে ৫ হাজার টাকা, জমি তৈরি ও নিড়ানিতে ৫ হাজার টাকা, মজুর খরচ তিন হাজার টাকা, সেচ খরচ দুই হাজার টাকা, কীটনাশক খরচ ৫ হাজার টাকা লেগেছে। এক বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ পেঁয়াজ পাওয়া যাবে। যার দাম বর্তমান বাজারে ছয় হাজার টাকা মণ। তবে দাম কমে চার হাজার টাকা হলেও দাম পাওয়া যাবে এক লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।
বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার কৃষক সাজেদুর রহমান বলেন, ‘তাহেরপুরে আগাম জাতের পেঁয়াজ উঠবে আর ১৫ দিন পরে। এখন হাটে ছয় হাজার টাকা মণ দরে আগাম জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তবে ১৫ দিন পরে যার দাম নেমে ৪/৫ হাজার টাকা মণ হতে পারে।’
পুঠিয়ার কাঁঠালবাড়িয়ার কৃষক আবুল হোসেন বলেন,‘ বেশি জমিতে চাষ করার চিন্তা করলেও পেঁয়াজের বীজের দাম অনেক বেশি থাকায় তা সম্ভব হয়নি। ১৫ কাঁঠা পেঁয়াজ লাগিয়েছি, আর কিছু দিন পরেই তা উঠবে। দাম ভালো পেলে খরচ বাদে ৫০ হাজার টাকা লাভ হতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল হক জানান, রাজশাহীতে এবার বীজের দাম বেশি ও বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু জমির পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে অন্যবারের চেয়ে বীজের দাম বেশি থাকায় পেঁয়াজ একটু কম লাগিয়েছে কৃষকরা। তবে আগামের পরেও কিছুদিন পরে দ্বিতীয় বার বিচির চারার যে পেঁয়াজ লাগানো হবে। সে ক্ষেত্রে অনেক বেশি উৎপাদন হবে। তিনি আরো বলেন, পেঁয়াজের অবস্থা ভালো আছে। ১৫ থেকে ২০ দিনে মাথায় আগাম পেঁয়াজ পুরোদমে ওঠা শুরু হবে হাটগুলোতে। তখন আর এই দামে পেঁয়াজ কিনে খেতে হবে না আমাদের।
এদিকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ৪৫ টাকায়। আর খোলাবাজারে পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে, ১৫৫ থেকে ১৭০ টাকা। আর খুচরা ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ