আ’লীগের প্রার্থী মনোনয়ন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার কৌশল!

আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৯৮টি আসনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। রোববার দু’টি আসন শূন্য রেখে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কুষ্টিয়া-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন শূন্য রাখা হয়েছে। এবারে বিপুল সংখ্যক কর্মি দলের মনোয়ন চেয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। গড়ে প্রতিটি আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ১১ জন। দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই সারা দেশ আলোচনায় মুখর হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগের প্রাথী ঘোষণা মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মূলত ভোট-উৎসবের মধ্যে প্রবেশ করলো। নির্বাচনে অন্যান্য দলের অংশগ্রহণের মাধ্য এই এই ভোট উৎসব নতুন নতুন মাত্রা লাভ করবে।

আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নিয়ে নানা পর্যালোচনা হচ্ছে। তিনজন প্রতিমন্ত্রীসহ ৭১ জন এমপি দলীয় প্রার্থীতা পাননি। বিতর্কিত অনেকেই এবার দলীয় মনোনয়ন পান নি। এটাকে অনেকেই সাধুবাদ জানাচ্ছেন। আরো রনঅনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিতর্ক আছেÑ তাদের বাদ দেয়া হলে দলীয় মনোনয়ন আরো বেশি গ্রহণযোগ্য হতো বলেই অনেকে মানছেন। তবে মনোনয়নে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার বিষয়টি প্রতিভাত হয়েছে যা একটি রাজনৈতিক দলের অবশ্যই থাকা উচিৎ। প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র স্পষ্ট- যা মনোনয়নের কৌশুলি দক্ষতার পরিচায়ক।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তরুণদের গুরুত্ব লক্ষ্য করা যায়। রাজনীতিকের বাইরে সাবেক আমলারা এসেছে, পুলিশের সাবেক আধিকারিকরাও এসেছেন। ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা আওয়ামী লীগৈর মনোনয়ন পেয়েছেন। সরাসরি নারী প্রার্থীর আধিক্যও এবার লক্ষ্য করা গেছে। এবারে সরাসরি নির্বাচনের জন্য ২৩ জন নারী দলীয় মনোনয়ন লাভ করেছেন। তবে এই বৈচিত্র্য, বৈশিষ্ট্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কিস্তু সমন্বয় করা গেলে নিঃসন্দেহে ভাল কিছুই হবে। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে পারলে এই বৈচিত্র্য সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

তবে দলীয় মনোনয়নই শেষ কথা নয়- রাজনৈতিক অনেক হিসাব নিকাশ এখনো অনেক বাকি আছে। ক্ষণে ক্ষণে এই হিসাব-নিকাশ পাল্টাতে থাকবে। আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করবে না কী জোটগতভাবে নির্বাচন করবে- এর সাথে হিসাব-নিকাশের সমন্বয় নির্ভর করছে। জোটগত নির্বাচন হলে দলীয় মনোনয়ন পাওয়াদের অনেককেই হতাশ করতে পারে। জাতীয় স্বার্থে তাদের নির্বাচনি মাঠ থেকে সরে যেতে হবে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কোন কোন দল আসছে- তার ওপর কৌশল কী হবে নির্ভর করছে। তবে এটা ক্রমশই স্পষ্ট হচ্ছে যে, এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে সব ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনকে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের সাথে মিলিয়ে দেখার সুযোগ থাকবে না। বরং যে সব দল নির্বাচনে অংশ নিবে না তারা রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখে পড়তে থাকেন।