আ’লীগে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা যারা দলে জায়গা করে দিয়েছে তাদের কী হবে?

আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৯, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

সারা দেশে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে যাতে অনুপ্রবেশকারীরা স্থান করে নিতে না পারে, এজন্য বিভাগভিত্তিক তালিকা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অনুপ্রবেশকারীদের বিভাগভিত্তিক তালিকা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় রাজশাহী বিভাগের আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা সংবলিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী রাজশাহী বিভাগে মোট ১২০৫ জন অনুপ্রবেশকারীর তালিকা করেছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় ৯ জন, রাজশাহী মহানগরে ২৭ জন, জয়পুরহাট জেলায় ৭৪৮ জন, নাটোরে ১০৪ জন, নওগাঁ জেলায় ৫৯ জন, বগুড়ায় ১২৬ জন, সিরাজগঞ্জে ১১ জন, পাবনায় ৫৯ জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১২১ জন রয়েছেন।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও নিজস্ব টিমের তত্ত্বাবধানে দলে অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতদের তালিকা প্রস্তুত করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ তালিকা প্রস্তুত করতে প্রায় ৬ মাস কাজ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে এসব তালিকা দায়িত্বশীল নেতাদের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে দলটির বিভিন্ন শাখা ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
৪ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে নির্মিত মঞ্চ পরিদর্শন কালে সাংবাদিকদের দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিতর্কিত, অনুপ্রবেশকারী, সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কোনো কমিটির কোনো পদে আসতে পারবেন না।
বিএনপি-জামাত থেকে আওয়ামী লীগে যারা প্রবেশ করেছে, তাদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। বর্তমান সময়ে বিষয়টি খুব বেশি করে উচ্চারিত হচ্ছে- যখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল অধিবেশন করতে যাচ্ছে। দলের বিভিন্ন ইউনিটের কাউন্সিলের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই। কিন্তু যারা কথিত অনুপ্রবেশকারীদের দলে জায়গা করে দিয়েছে, তাদের বিষয়টি মোটেও আলোচনায় আসছে না। অথচ কথিত অনুপ্রবেশকারীদের কোনো রাখঢাক করে দলে নেয়া হয় নিÑ বরং প্রকাশ্যেই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই তাদের দলে ভিড়ানো হয়েছে। এবং পোড় খাওয়া কর্মিদের অনিচ্ছাকে গুরুত্ব না দিয়েই সেটা করা হয়েছে। যারা তাদের ভিড়িয়েছেন তারা ওই অনুপ্রবেশকারীদের তুলনায় দলের জন্য কম বিপজ্জনক কি? অভিযোগ আছে এরা দলের মধ্যে প্রভাব বলয় তৈরি করতে এবং অর্থ-সুবিধা নিয়ে বিএনপি-জামাতের ঘৃণিত কর্মিদের দলে জায়গা করে দিয়েছে। যারা এই কাজটি করেছেন তাদের ব্যাপারেও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন আছে। নতুবা এরা দলের মধ্য থেকে আবারো নতুন কোনো নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ