আ’লীগ নেতাদের না বলায় নাটোরে কবরস্থানে লাশ দাফন করতে দেয়া হয় নি

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


আওয়ামী লীগ নেতাদের না বলায় নাটোরে নলডাঙ্গায় আঞ্জুয়ারা বেগম (৭৫) নামে এক মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করতে দেয় নি বলে অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত আঞ্জুয়ারা বেগম বাশিলা দক্ষিণপাড়ার মৃত সুলতান মন্ডলের স্ত্রী।
মৃত আঞ্জুয়ারা বেগমের ছেলে রেজাউল করিম জানান, তার মা আঞ্জুয়ারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলেন। গত বুধবার দুুপরে নলডাঙ্গার বাশিলা দক্ষিণপাড়া নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন। কিন্তু মৃত্যুর আগে আঞ্জুয়ারা বেগম তার স্বামীর পার্শে¦ কবর দেয়ার জন্য বলে যান। সে মোতাবেক আঞ্জুয়ারা বেগমের দাফন সম্পন্ন করার জন্য বাশিলা কেন্দ্রীয় কবরস্থানের সভাপতি আবদুল আজিজ ও সহসভাপতি জয়নাল খার অনুমতি নিয়ে কবর খনন করা হয়। পরে বুধবার রাত সাড়ে সাড়ে ৭টার দিকে লাশ দাফন করার জন্য নিজ বাড়ি থেকে কবরস্থানের দিকে রওনা হলে ফৌজদার পাড়া এলাকায় বাধা দেয় নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তাহের উদ্দিন, ৮নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য দিলশাত শেখ এবং নহির উদ্দিন ও এরশাদ আলী।
বাশিলা কেন্দ্রীয় কবরস্থান কমিটির সভাপতি আবদুল আজিজ খান বলেন, মৃতের পক্ষ থেকে আবু হেনা ও নাতী মেহেদি হাসান আতিক ওসিয়ত মোতাবেক লাশ দাফনের জন্য তারা অনুমতি নেয়। নিয়ম অনুয়ায়ী গোরস্থান কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন এবং আবদুস সোবহানের কাছে গিয়ে ১ হাজার টাকা দিয়ে জায়গার অনুমতি নেয়। সে অনুমতির পরিপ্রেক্ষিতে তারা লাশ দাফন করতে এসেছিলো। কিন্তু ভুল বুঝাবুঝির কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
এসময় ৯নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তাহের উদ্দিন ও দিলশাত বলেন, তাদেরকে না বলার কারণে লাশ দাফন করতে দেয়া হবে না। এসময় উপস্থিত লোকজন আওয়ামী লীগ নেতাদের বুঝানোর চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিত-ার সৃষ্টি হয়। পরে আঞ্জুয়ারার লাশ দাফনের জন্য বিলজোয়ানী বাশিলা উত্তরপাড়া করবস্থানে নেয়া হয়। এসময় পুনরায় কবর খনন করে রাত ১০টার দিকে আঞ্জুয়ারার দাফন সম্পন্ন হয়।
৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তাহের উদ্দিন বলেন, কবরস্থানে অন্য এলাকার লোকজনের দাফন না করার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া ছিল। যার কারণে আমরা কমিটির লোকজনের কাছে জানতে চেয়েছি মাত্র। লাশ দাফনে কোনো বাধা দেয়া হয় নি।
তিনি আরো বলেন, আমরা নিজের ভুল বুঝতে পেরে তাদেরকে বাশিলা কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা শুনেনি।
এ বিষয়ে মাধনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ান বলেন, একজন মুসলমান হিসেবে লাশ দাফনে বাধা দেওয়া মোটেও উচিত হয় নি তাদের। ধর্মীয় বিরোধী কাজ করেছে তারা। আমি ঢাকাতে থাকার কারণে বিষয়টি মোবাইল ফোনে শুনেছি।