আ’লীগ নেতা ভুলুর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২, ১১:১৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান ভুলু’র চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গেলো রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর)। ২০১৮ সালের এই দিনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন মাহবুব জামান ভুলু। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ভুলুর মৃত্যুবার্ষিকীতে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
প্রবীন আওয়ামী লীগের নেতা ভুলু ছিলেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক জাতীয় পরিষদ সদস্য, রাজশাহী জেলা আওয়ামী যুব লীগের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক বোর্ড মেম্বার ছিলেন।
জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যোগ দেন মাহবুব জামান ভুলু। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৬৯ সালে ছাত্রঐক্য সংগ্রাম পরিষদের নেতা নির্বাচিত হয়ে বৃহত্তর রাজশাহীর গণ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। একাত্তরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং বিএনএফের রাজশাহী কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতার পরের বছর মাহবুব জামান ভুলু যুবলীগের সদস্য হন। এরপর ১৯৭৫ সালে তিনি বঙ্গবন্ধুর বাকশালের রাজশাহী জেলার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সামরিক সরকারের হাতে মাহবুব জামান ভুলু গ্রেফতার হন এবং কারাবরণ করেন। পরে ১৯৭৮ সালে তিনি মুক্তি পান। ১৯৭৯ সালে তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত মাহবুব জামান ভুলু রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৯০ সালে তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
১৯৯১ সালে মাহবুব জামান ভুলু রাজশাহী-২ আসেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ পদে ছিলেন। ওই বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ তাকে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী করেছিল।