আলুখেতে চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা

আপডেট: February 16, 2020, 12:56 am

পবা প্রতিনিধি


পবা উপজেলার বাঘধানী এলাকার একটি খেতে আলু চাষীরা পরিচর্যায় ব্যস্ত সোনার দেশ

রাজশাহীতে চলতি বছর আলুর ভাল ফলনের আশা করছেন আলু চাষিরা। তবে দাম কেমন থাকবে তাও ভাবিয়ে তুলছে চাষিদের। কৃষকেরা শেষ মুহূর্তে আলুর জমিতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর ১৫ থেকে ২০ দিন পরে পুরোদমে আলু উত্তোলন শুরু হবে।
রাজশাহীর পবা, মোহনপুর, তানোর, বাগমারা উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে আলু চাষ হয়। গত বছর আলু চাষিরা দাম ভাল না পাওয়ায় এ বছর আলু চাষ কম হয়েছে। তারপরেও এ বছর কৃষকদের মধ্যে আলুর দাম নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আলুচাষিদের বক্তব্য, আলুতে যেমন ব্যাপক লাভ, তেমনি লোকসানের আশঙ্কাও রয়েছে। বর্তমানে আলুর আবাদের উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় এখন আর এই আবাদ প্রান্তিক চাষি পর্যায়ে নেই। চাষি কাম ব্যবসায়ীরাই আলুর আবাদ করছেন।
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে আলুচাষ বেড়েছে। চাষি কাম ব্যবসায়ীরাই এই আবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। প্রান্তিক চাষিরাও ব্যবসায়ীদের জমি লিজ দিয়ে একদিকে নিশ্চিন্তে থাকছেন এবং অন্যদিকে আলু তোলার পর বোরো আবাদ করছেন। কেউ করছেন ভুট্টা চাষ। চাষে আধুনিক কলাকৌশল প্রয়োগে অধিক ফলন পাচ্ছেন চাষি।
এখন বরেন্দ্রের মাঠে মাঠে পরিপক্ক হয়ে উঠেছে আলু। আগামী দুই তিন সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি আলু উঠতে শুরু করবে। ইতোমধ্যে রাজশাহীর হিমাগারগুলো ধোয়া- মোছা শুরু করেছেন মালিকরা।
পবা উপজেলার জেলার বায়ার আলুচাষি আবদুর রাজ্জাক তানোরের চান্দুড়িয়ায় প্রায় ৩শ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। তবে দাম ভাল না থাকলে তার লোকসান গুনতে হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, প্রতিবিঘায় আলু উৎপাদন হয় প্রায় ৪ টন। সবমিলিয়ে উৎপাদন খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সামছুল হক বলেন, চলতি বছর আলুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমিতে। গত বছর আবাদ হয়েিেছল ৩৮ হাজার ৯৭১ হেক্টর জমিতে।
তিনি আরো বলেন, এই অঞ্চলের মাটি আলু চাষের উপযোগী। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা আধুনিক চাষের কলাকৌশল নিয়ে কৃষকদের পাশে থেকে কাজ করছেন বলে তিনি জানান।