আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণহীন নিষেধাজ্ঞা কে মানবে, কে মানাবে?

আপডেট: October 18, 2020, 12:11 am

পেঁয়াজের পর এবার আলুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর সব সবজির দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অজুহাত তৈরি করেন ব্যবসায়ীরা কিন্তু আলুর দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ-অজুহাত আমলে নেয়ার মত নয়। ব্যবসায়ীরা যে সিন্ডিকেট করে আলুর দাম বাড়িয়ে ফায়দা লুটছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এটা অসদুপায় তো বটেই অপরাধও। আলুর দাম বাড়ার সাথে বন্যা-খরা-উৎপাদন ঘাটিতির কোনোই সুযোগ নেই। তবে কেন বাড়লো আলুর দাম? সেটা মন্ত্রীও বলছেন, ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই এই মূল্য বৃদ্ধি। যদি তাই হয়- তা হলে ওই অসৎ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না কেন?
আলুর দাম বৃদ্ধির ব্যাপারটিকে ক্রেতারা মোটেও মানতে পারছেন না। দেশের এক নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে আলুর দাম বৃদ্ধিতে সরকার ক্ষুব্ধ ও বিব্রত। দাম বেঁধে দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। খুচরা বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে হবে। কিন্তু সরকারের এই নির্দেশনা মানছে না ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার রাজশাহীর বাজারে ৪৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হয়েছে। অবশ্য বাজার মনিটরিং ব্যবস্থাটাও তেমন পোক্ত নয়। অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা আলুর দাম যেমন রাখতে চায়- তেমনটিই হচ্ছে তাদের মত করেই হচ্ছে।
আলুর দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো যুক্তি আছে কি? আগেই বলা হয়েছে- আলুর দাম বাড়ার সাথে বন্যা-খরা বা উপদান ঘাটতিকে দায়ি করা যাবে না। তারপরেও কেন দাম বাড়লো? সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদেরকে কোল্ডস্টোরেজে থেকে বেশি দামে আলু কিনতে হচ্ছে। বৃষ্টি আর বন্যার কারণে আলু সঙ্কট। কোল্ডস্টোরেজে খাবারের আলু কম। এখন যে পরিমাণ আলু আছে তার তিন ভাগের দুই ভাগ বীজ। তারা যদি আলুর দাম কম রাখেন তাহলে তারাও কম দামে আলু বিক্রি করতে পারবেন। সেই বৃষ্টি আর বন্যার অজুহাত। অথচ আলু শীতকালীন সবজি যার সাথে অতিবৃষ্টি, বন্যা কিংবা খরার কোনো যোগ নেই। আর এ বছর আলুর উৎপাদন চাহিদার ৫ গুন হয়েছে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, রাজশাহীতে গত মৌসুমে ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। আর প্রতিহেক্টর জমিতে ২৬ মেট্রিক টন করে উৎপাদন হয়েছে। এতে রাজশাহীতে ৯ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন আলুর উৎপাদন হয়েছে। আর রাজশাহীতে আলুর চাহিদা হলো প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। এসব আলুর একটা বড় অংশ স্থানীয় কোল্ড স্টোরেজগুলোতে সংরক্ষণ হয়। এ ক্ষেত্রে আলুর দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে অন্য কোনো অজুহাত সৃষ্টির সুযোগ নেই। অবশ্য প্রতিবছর অক্টোবর নভেম্বরে আলুর দাম সামান্য বাড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটা ৩০ টাকা কেজির উপরে নয়। এবারই প্রথম আলুর দাম ৫০ টাকা ছুঁয়েছে। এটা বুঝতে মোটেও অসুবিধা হয় না যে, বড় ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়িয়েছেন। ব্যবসায়ীরা ন্যক্কারজনকভাবে এই সুযোগ তখনই গ্রহণ করলেন যখন পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি এবং চারদিকে ধর্ষণের মত ঘটনার বিরুদ্ধে দেশব্যাপি আন্দোলন-সংগ্রাম হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকেই বেছে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
কিন্তু সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও পরিস্থিতির কোনোই উন্নতি হয়নি। নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে কোনো উদ্যোগ নেই। বড় ব্যবসায়ী- কোল্ড স্টোরেজের মালিকদের বিরুদ্ধেও কোনরূপ ব্যবস্থা নেই। ফলে বাজারে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব পড়ছে না। কোল্ড স্টোরেজগুলোতে কত পরিমাণ বিক্রয়যোগ্য আলু আছে এবং সেগুলো কীভাবে বাজারের সরবরাহ হতে পারে সেদিকটা জরুরিভাবে দেখা গেলে সুফল পাওয়া যেতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ